সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের পর নিজের প্রথম মন্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, তেহরানের কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে যে, সিরিয়ায় যা ঘটেছে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকের (ইসরাইল) যৌথ পরিকল্পনার ফসল।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
তুরস্কের দিকে ইঙ্গিত করে তেহরানে এক সমাবেশে খামেনি বলেন, হ্যাঁ, সিরিয়ার প্রতিবেশী একটি সরকার এতে (আসাদের পতনে) স্পষ্ট ভূমিকা পালন করেছে এবং করছে। আমরা এটি দেখতে পাচ্ছি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, সিরিয়ায় ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিরোধে’ একটি ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ গঠনের কথা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। এরই মধ্যে দেশটির দক্ষিণের ওই অঞ্চলে সিরিয়ার ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর বিমান হামলাও জোরদার করেছে ইসরাইল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বলেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি থাকবে না। তবে সেটি নিয়ন্ত্রিত হবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কাৎজ। তবে তিনি বলেন, এই অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্য ‘সিরিয়ার ভূখণ্ডে সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসীদের সংগঠিত হওয়া’ প্রতিহত করা।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এটাও নিশ্চিত করেন, গভীর রাতে হামলা চালিয়ে সিরিয়ার বেশ কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।
আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় একের পর এক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী। গত ৪৮ ঘণ্টায় এমন ৪৮০টি হামলা চালানোর খবর জানিয়েছে তারা।