দেশের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো থেকে আমানত তুলে নিয়েছে গ্রাহক। ফলে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকগুলোর সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত কমেছে। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ভিত্তিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।Travel packages
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামি ধারার কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি বেরিয়ে আসে। আবার এসব ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেয়া অবৈধ সুবিধা বন্ধ করে দিলে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে পারে না। তাই গ্রাহকরা আতঙ্কে তাদের জমানো টাকা তুলে নেয়। তবে এখন ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানত ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে কমে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকায় নেমে আসে। তিন মাসে আমানত কমেছে ১১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।Travel packages
গত জুন মাসে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। তিন মাসে বিনিয়োগ কমেছে ৭২ কোটি বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। মূলত এসব ব্যাংকের ঋণ বা বিনিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ থাকার কারণে কমেছে।
দেশে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক রয়েছে ১০টি। ব্যাংকগুলো হচ্ছে—ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, গ্লোবাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক, এক্সিম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।
এতোদিন বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের দখলে ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এসব ব্যাংক থেকে গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করেছে। নিয়ন্ত্রণ থাকাকালীন গ্রুপটি নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলো থেকে বের করে নিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন চরম তারল্য সংকটে ভুগছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত কমলেও প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা।
এছাড়া জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর তারল্য আরও কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ১ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা ঋণাত্মক দাঁড়িয়েছে। গত জুন শেষে যা ছিল ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।
একটি ব্যাংকের নগদ রিজার্ভ অনুপাত (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাতের (এসএলআর) জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাখার পর উদ্বৃত্ত তারল্য হিসাব করা হয়।
ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ আমানতের বিপরীতে সাড়ে ৫ শতাংশ সমপরিমাণ এসএলআর এবং নগদ আমানতের ৪ শতাংশ সমপরিমাণ সিআরআর রাখতে হয়।
মূলত আমানত উত্তোলনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তারল্য সংকটে পড়েছে দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর দুই থেকে তিন বছর আগেও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল। কিন্তু পাঁচটি ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়মের কারণে বর্তমানে এই খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তবে গত তিন মাসে রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সময় রপ্তানি ও আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যাথাক্রমে ৫৮ দশমিক ৩২ শতাংশ ও ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।