শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

আমদানি-রপ্তানি: নিষিদ্ধ ‘শেল ব্যাংকের’ সাথে যমুনা ব্যাংকের ৩২ লাখ ডলারের লেনদেন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১২৭ পড়া হয়েছে

নানা উপায়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার করে থাকে অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা। বিশেষ করে আমদানি-রফতনির আড়ালে অর্থ পাচার বেশি হচ্ছে। এক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন ও নিষিদ্ধ শেল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে একটি চক্র। এছাড়া অস্তিত্বহীন এই ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাচার হলে তার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তও পাওয়া খুব কঠিন।

ফ্যাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) এর মতে, শেল ব্যাংক বলতে ওইসব ব্যাংককে বুঝাবে যার যেই দেশে নিবন্ধিত বা লাইসেন্স প্রাপ্ত সেই দেশে কোনও বাহ্যিক বা বাস্তবে উপস্থিতি নেই অর্থাৎ কোনো শাখা নাই। এটার সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক না রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বা বিএফআইইউ’র পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে জারি করা একাধিক সার্কুলারে বলা হয়েছে, শেল ব্যাংকের সঙ্গে কোনও ধরনের ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এমনকি যেসব করেসপন্ডেন্ট বা রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক শেল ব্যাংক এর সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করে বা হিসাব সংরক্ষণ করে বা সেবা প্রদান করে তাদের সাথেও করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না বা বজায় রাখা যাবে না। দেশের প্রতিটি ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে, রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক কোনও শেল ব্যাংককে সেবা দিচ্ছে না, বা সম্পর্ক রাখছে না।

কিন্তু বিএফআইইউ’র এসব নির্দেশনা অমান্য করে নিষিদ্ধ শেল ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের যমুনা ব্যাংক পিএলসি ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং শেল ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ২৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৮ মার্কিন ডলার ঋণপত্র গ্রহণ করে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকের অনুকুলে এ্যাডভাইস করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ’র এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া ব্যাংকটির ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার মাধ্যমেও শেল ব্যাংকের সাথে আরও প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বললে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, যমুনা ব্যাংক বিএফআইইউ’র নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। আইন অমান্য তারা নিষিদ্ধ শেল ব্যাংকের সাথে ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এখানে যমুনা ব্যাংক যে অর্থপাচারে সহযোগিতা করেছে এতে কোনো সন্দেহ নাই।

একাধিক সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব মিথ্যা অভিযোগ।

বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেল ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী ব্যাংকের সাথে যমুনা ব্যাংক লিঃ রিলেশনসিপ ম্যানেজমেন্ট এ্যাপলিকেশন (আরএমএ) স্থাপন করেছে এবং শেল চার্টার্ড ব্যাংক (শেল ব্যাংক) কর্তৃক ইস্যুকৃত ঋণপত্র অপরাপর ব্যাংকে অ্যাডভাইস করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যমুনা ব্যাংকের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনাও করা হয়েছে।

তবে বিএফআইইউ তাদের মতামতে উল্লেখ করেছে, যমুনা ব্যাংক লিঃ এর সাথে ইস্ট্রাটেজিয়া ইনভেস্টমেন্ট এস/এ সিভিসি জিইএস পিজেএসসি ব্যাংক ক্রেডিট ডিনাপ এর রিলেশনসিপ ম্যানেজমেন্ট এ্যাপলিকেশন (আরএমএ) রয়েছে এবং শেল ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত যথাক্রমে মার্কিন ডলার ১৩,৩৬,৮৮৮.৭৪ এবং ১৬,১০,৯৩৯.৯৮ মূল্যমানের ঋণপত্র গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকের অনুকূলে এ্যডভাইস করা হয়। পরবর্তীতে শেল ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত আলোচ্য ঋণপত্রসমূহের বিপরীতে অধিকাংশই রপ্তানি সম্পাদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শেল ব্যাংকের ইস্যুকৃত ঋণপত্রের বিপরীতে রপ্তানি সম্পাদন করা হলেও উক্ত রপ্তানি বিলমূল্য দেশে প্রত্যাবাসন করার সুযোগ নেই। ফলে, যমুনা ব্যাংক লিঃ কর্তৃক গ্রাহকদের অনুকূলে উক্ত ঋণপত্রসমূহ অ্যাডভাইস করার মাধ্যমে বিদেশে মুদ্রা পাচার করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদ- ও বিএফআইইউ সার্কুলার অনুযায়ী শেল ব্যাংক এর সাথে সকল ধরণের ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ এবং যে সব করেসপন্ডেন্ট বা রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক শেল ব্যাংক এর সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করে বা হিসাব সংরক্ষণ করে বা সেবা প্রদান করে তাদের সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না বা বজায় রাখা যাবে না। অতএব, যমুনা ব্যাংক লিঃ কর্তৃক উক্ত নির্দেশনা পরিপালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩(২)ধারার আওতায় জরিমানাযোগ্য।

বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যমুনা ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার গ্রাহক নিট হরাইজন লিমিটেড কর্তৃক শেল চার্টার্ড ব্যাংক (শেল ব্যাংক) এর ইস্যুকৃত এলসির বিপরীতে ১,৩১,৯৯৫,৪৪ মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি করা হয়, যার বিদেশি ক্রেতা ছিল ম্যাটেস্টা করপো. ইউএসএ। তারপর জার্মানি থেকে ৩০,০০০,০০ মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসিত হয়েছে, যার রেমিটার মো. হাবিবুর রহমান, (যিনি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী) এবং সিঙ্গাপুর থেকে ৯৮,৯৯৫.০০ মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসিত হয়েছে যার রেমিটার সাদ ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। এখানে যমুনা ব্যাংকের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে।

তবে বিএফআইইউ তার মতামতে বলেছেন, যমুনা ব্যাংক লি:, ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা, ঢাক এর গ্রাহক নিট হরাইজন লি: কর্তৃক শেল ব্যাংক ইস্যুকৃত ঋণপরের বিপরীতে প্রায় ১.৩২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইস্যুয়িং ব্যাংক ও আমদানিকারকের ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রা করা হয়নি। উক্ত রপ্তানির বিপরীতে জার্মানি হতে বাংলাদেশী রপ্তাানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রেরিত রেমিট্যান্স ৩০,০০০.০ মার্কিন ডলার এবং সিঙ্গাপুর হতে আমদানিকারক ভিন্ন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রেরিত রেমিট্যান্স ১৮, ১৯৯৫.০০ মার্কিন ডলারকে খানি মূল্য বাবদ প্রত্যাবাসন হিসেবে দেখানো হয়েছে মর্মে ধারণা করা যায়। ফলে, প্রকৃতপক্ষে রপ্তানির বিপরীতে বিলমূল্য প্রত্যাবাসন করা হয়নি এবং প্রাপ্ত রেমিটেন্সের উৎস/গন্তব্য যাচাই করা হয়নি।

আলোচ্য বিষয়ের উপর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রদান করার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া গ্রাহকের লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে (এসটিআর) হিসেবে দাখিল না করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩(৫) ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে উপরিল্লিখিত ক্রমিকে বর্ণিত ৫টি বিষয়ে-ই ব্যাংকের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না মর্মে পরিলক্ষিত হয়েছে। ০৫ এ বর্ণিত চার জন গ্রাহকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন সন্দেহজনক হওয়া সত্ত্বেও মানিলন্ডারিং প্রতিবে আইন-২০১২ (১)() অনুযায়ী সন্দেহজনক হিসেবে অত্র ইউনিটে রিপোর্ট দাখিল না করা একই আইনের ২৫(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানা যোগ্য। মতামত অংশে বর্ণিত দু’টি শেল ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী ব্যাংকের সাথে যমুনা ব্যাংক লিঃ এর সম্পর্ক স্থাপন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩(১)(ঘ) ধারা লংঘিত হয়েছে, যা একই আইনের ২৩(৫) ধারার আওতায় জরিমানা যোগ্য।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024