ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জন নিহতের ঘটনায় বাসের চালক মো. নুরুদ্দিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আজ শনিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক নুরুদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনিবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদের বরাতে তিনি জানান, গ্রেপ্তার নুরুদ্দিন গত ১০ বছর ধরে বাস, ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন গাড়ি চালিয়ে আসছে। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ২ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এছাড়া বাসটিরও (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৫১৭০) ফিটনেস সনদ ছিল না। দুর্ঘটনার পর নুরুদ্দিন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে অটোতে আব্দুল্লাহ পুর আসেন। পরে সিএনজি অটোরিকশায় সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার ফুফাতো বোনের বাসায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যে র্যাব-১০ ও র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোল পরিশোধের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাসকে চাপা দেয়। এতে প্রাইভেটকারে থাকা একই পরিবারের চারজন ও মোটরসাইকেলে থাকা এক নারী ও সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নন্দনকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলমের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪০), তার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৪), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১), ইসরাত জাহানের ছেলে আইয়াজ হোসেন (২), মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৬) ও তার ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৭)।
গ্রেপ্তার বাসচালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এ র্যাব কর্মকর্তা।
এদিকে গত শুক্রবার দুর্ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ দিনে এক্সপ্রেসওয়েতে ৮টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭জন নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।