শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

চরম সংকটেও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খরচ বিলাস

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৮০ পড়া হয়েছে

অনিয়ম-জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া ঋণ ফেরত না আসায় চরম তারল্য সংকটে ভুগছে ইসলামী ধারার ফার্স্টসিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। আমানতের টাকা ফেরত দিতে না পারায় সম্প্রতি ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় বিক্ষোভও করেছেন গ্রাহকরা। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টারের মাধ্যমে সবল কয়েকটি ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা নিয়েছে ব্যাংকটি। কিন্তু এই টাকা দিয়ে কোনো কুল কিনারা করতে পারেনি। পরে গ্রাহকদের চাপ সামলাতে না পেরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরও সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা নিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি এখন এভাবেই ধার-দেনা করে চলছে।

কিন্তু অর্থনৈতিক এমন টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্যয়-বিলাসে মত্ত হয়েছে ব্যাংকটি। সম্প্রতি ব্যাংকটির ২৭২তম বোর্ড সভায় বোর্ড পরিচালক ও শরীয়াহ বোর্ডের সদস্যদের ট্রাভেলিং ও ডেইলি ভাতা অর্ধেক বেশি বৃদ্ধি করেছে। এইক সঙ্গে ব্যাংকটির ট্রেনিং এন্ড রিচার্স একাডেমির প্রিন্সিপাল নিয়োগ দিয়েছে আগের চেয়ে মাসিক দেড় লাখ টাকা বেশি বেতনে। এছাড়া পাবলিসিটি এবং ব্রান্ডিংয়ের জন্যও অনেক টাকা বরাদ্দ করেছে।

আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ব্যয়কে অযৌক্তিক মনে করে আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এফএসআইবির বোর্ড সভায় অনুমোদিত তথ্য মতে, ব্যাংকটি কোনো পরিচালক বা শরীয়াহ বোর্ডের কোনো সদস্য ব্যাংকের কাজে বিদেশ সফরে গেলে তাদের জন্য দেশ ভেদে দৈনিক খরচ বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আগে বরাদ্দ ছিল ৪০০ ডলার। সেটা এখন বাড়িয়ে ৬০০ ডলার করা হয়েছে।

কানাডার জন্য ছিল ৪০০ কানাডিয়ান ডলার। সেটা এখন বাড়িয়ে ৬০০ কানাডিয়ান ডলার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জন্য ছিল ৩০০ পাউন্ড। সেটা এখন ৬০০ পাউন্ড করা কয়েছে। ইউরোপের জন্য ছিল ৩০০ ইউরো।

সেটা এখন ৬০০ ইউরো করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। সেটা এখন ৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করাহয়েছে। জাপানের জন্য ছিল ৪০০ মার্কিন ডলার। সেটা এখন ৬০০ ডলার করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জন্য ছিল ৩০০ সিঙ্গাপুর ডলার। সেটা এখন ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার করা হয়েছে। আর অন্যান্য খরচের জন্য বরাদ্দছিল ২৫০ মার্কিন ডলার। সেটা বাড়িয়ে ৫০০ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া, উপরে উল্লেখিত দেশের যেকোনো একটাতে যদি কোনো স্পন্সরের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে খাবার ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২৫০ মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

তথ্য মতে, ব্যাংকের কোনো পরিচালক বা শরীয়াহ বোর্ডের সদস্য যদি ব্যাংকের প্রয়োজনে দেশের ভেতর কোথাও পরিদর্শনে যান তাহলে তার প্রতিদিনের থাকা-খাওয়া বাবদ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সূত্র মতে, ১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ব্যাংকটির পাবলিসিটি, ব্র্যান্ডিং, স্পন্সরশিপ খাতে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তথ্যানুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ট্রেনিং এন্ড রিচার্স একাডেমির পরিচালক ছিলেন মো. হাবিবুর রহমান। সব মিলিয়ে তার মাসিক বেতন ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা। হাবিবুর রহমান চলে যাওয়ার পর বিআইবিএম এর ডিজি ড. আক্তারুজ্জামানকে ব্যাংকটির ট্রেনিং এন্ড রিচার্স একাডেমির ডিজি (প্রস্তাবিত পদ) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। আর তাকে ব্যাংকের ডিএমডি’র মর্যাদা দেয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিচালক বা ডিজি ড. আক্তারুজ্জামানের বেসিক সেলারি ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্স ভাতা বাবদ ৬০ হাজার টাকা, বিনোদন ভাতা ২৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৪০ হাজার টাকা, বাসা সংরক্ষণ ভাতা বাবদ ২৫ হাজার টাকা, ইউটিলিটি বাবদ ২৫ হাজার টাকা এবং অবকাশকালীন ভাতা ২৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে কথা বললে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, তাদের এগুলো হাস্যকর বিষয়। গ্রাহকের টাকা দিতে পারছে না আবার ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। বোর্ড ভাঙা ছাড়াতো এখানে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। অনিয়মের সাথে জড়িত সবাই বহাল তবিয়তে আছেন। তাদের এখন খরচ কমিয়ে আনা। সেখানে তারা আরও বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টি উল্লেখ করে মেসেজ দিলেও কোনো জবাব দেননি।

এদিকে, ব্যাংকটির একটি অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুসারে, চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা শরিয়াহভিত্তিক ছয় ব্যাংকের অন্যতম ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবি) মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৬ শতাংশ নিয়েছে এই শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ৬০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েছে ৩৩ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা বা ৫৬ শতাংশ। এসব ঋণ চট্টগ্রামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২৪টি শাখা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এই ব্যাংকটিরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকসহ ১১ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন পর্ষদের অধীনে গত ১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। নিয়ম লঙ্ঘন করে মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগ, অতিমূল্যায়িত জামানত, ঋণ পুনঃতফসিলে অনিয়ম ও খেলাপি ঋণকে নিয়মিত হিসেবে শ্রেণিভুক্তকরণসহ ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পায় পরিদর্শক দল।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামে ব্যাংকটির ২৪ শাখা থেকে ৩৩ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকটি গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এসব অনিয়মের ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। গ্রাহকদের আস্থা কমেছে। এসব অনিয়মের কারণে ব্যাংকের সব কর্মকর্তা ও অংশীদারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024