শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ট্রুডোর পদত্যাগ উন্নয়নশীল দেশের জন্য শিক্ষণীয়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৮৬ পড়া হয়েছে

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পদ হইতে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়াছেন জাস্টিন ট্রুডো। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলিয়াছেন যে, দল নতুন নেতা নির্বাচন করিবার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদ হইতে ইস্তফা দিবেন তিনি। একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, নারীবাদী, পরিবেশবাদী এবং শরণার্থী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী হিসাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাহার যথেষ্ট সুনাম রহিয়াছে। তাহার পরও তিনি গত কয়েক মাস ধরিয়া কেন বিরোধী দল এমনকি নিজ দলের অভ্যন্তরেও চরম বিরোধিতার মুখে পড়িলেন? এই সকল প্রতিবন্ধকতার কারণে কানাডার পার্লামেন্ট কয়েক মাস ধরিয়া পুরাপুরি অচল হইয়া রহিয়াছে। ট্রুডোর এই বিপর্যয় বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ সালে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করিয়া তারুণ্যের চমক হিসাবে প্রথম বার কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন বারাক ওবামা, আঙ্গেলা ম্যার্কেল, শিনজো আবে এবং ডেভিড ক্যামেরনের মতো বিশ্বনেতারা শাসনক্ষমতায় ছিলেন। ইহার পর প্রায় এক দশক ধরিয়া দেশটির নেতৃত্ব দিয়া আসিতেছেন তিনি। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে কানাডায় নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা রহিয়াছে। তাহার পূর্বে দলীয় নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়িতে বাধ্য হইলেন তিনি। অথচ আদিবাসীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, জলবায়ুনীতির প্রতি সমর্থন, কোভিড মহামারিকালের পরিস্থিতি সামলানো, দারিদ্র্য বিমোচনে শিশুদের জন্য সুবিধাভাতা চালু ইত্যাদির মতো বিষয়গুলির জন্য কানাডার মানুষ তাহাকে কখনো ভুলিতে পারিবেন না; কিন্তু ট্রডোর শাসন আমলে সকল কিছুর মূল্য প্রায় ৩০ হইতে ৫০ শতাংশ বাড়িয়া যাওয়া, বাড়িভাড়া ও বাড়ির মূল্য বাড়িয়া প্রায় দ্বিগুণ হওয়া, বড় বড় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিতে না পারা, অত্যধিক মানবতা দেখাইতে গিয়া সিরিয়া, ইউক্রেন, আফগানিস্তান, ইরান, ফিলিস্তিনসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ হইতে ভিজিট ভিসায় প্রচুর পরিমাণ রিফিউজি লইয়া আনা, বেকারত্বের হার বাড়িয়া ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হওয়া ইত্যাদি কারণে জন অসন্তোষ বাড়িতে থাকে। মিত্রদেশের কথা শুনিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে প্রচুর পরিমাণ অর্থ (১৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করা, এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি মিটাইতে জনগণের উপর বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স আরোপ করা প্রভৃতি উদ্যোগও তাহার জন্য কাল হইয়াছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি কানাডায় পরবর্তী সংসদ অধিবেশন বসিবার কথা ছিল। অধিবেশনের দুই বা তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাহার উপর অনাস্থা প্রস্তাব আনিত বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি। ইহাতে নিজ দলের ৫০ জন এমপিরও বিরোধিতায় এমনিতেই তাহার সরকারের পতন হইত। তাই প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সেই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করিয়া তাহার পূর্বেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়া বুদ্ধিমানের পরিচয় দিলেন। যদিও তাহার মতো একজন সুদর্শন, বাগ্মী, স্মার্ট, কানাডার ধর্মবর্ণজাতি-গোত্রের প্রতি সহানুভূতিশীল হৃদয়বান প্রধানমন্ত্রীর বিদায় অনেকের নিকট অপ্রত্যাশিত। তবে এই পদত্যাগের পর তিনি আবার স্বমহিমায় রাজনীতিতে ফিরিয়া আসিলেও অবাক হইবার কিছু থাকিবে না।

কানাডায় কে ক্ষমতায় আসিলেন বা আসিলেন না, তাহা আমাদের মূল আলোচ্যবিষয় নহে। আসলে কখন ক্ষমতা ছাড়িতে হয়, তাহা রাজনৈতিক নেতাদের জানা প্রয়োজন। এইরূপ মনমানসিকতা গণতন্ত্রের জন্য রক্ষাকবচ। তিনি প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নশীল দেশের নেতাদের মতো মারামারি-হানাহানির পথে না যাইয়া জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিয়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন। আমরা ইতিপূর্বে ইংল্যান্ডে দেখিয়াছি, ব্রেক্সিট ইস্যুতে থেরেসা মে, পার্টিগেট কেলেঙ্কারিতে বরিস জনশন এবং মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় থাকিয়া লিজ ট্রাস পদত্যাগ করেন। অনুরূপভাবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে নিজ দলের ভরাডুবির পর বিরোধী দলের দাবির মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পার্লামেন্ট ভাঙিয়া দিয়া আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। অর্থাৎ তাহারা কেহই ক্ষমতাকে আঁকড়াইয়া থাকিতে চেষ্টা করেন নাই কিংবা আরেকটি নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষাও করেন নাই। আসলে ইহাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, যাহা ইউরোপ- আমেরিকার মতো দেশগুলিতে আছে; কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির ক্ষেত্রে ইহা এখনো অকল্পনীয়। সুতরাং জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের ঘোষণা উন্নয়নশীল বিশ্বের নেতাদের জন্য শিক্ষণীয়। তাহাছাড়া নিজ দেশের নাগরিকদের স্বার্থকে সকল কিছুর উপর প্রাধান্য দেওয়াই যে ক্ষমতাবানদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, এই ঘটনা হইতে তাহাও আমরা সম্যক উপলব্ধি করিতে পারি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024