রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালানো ওই থানার সাবেক ওসি শাহ আলমকে গ্রেপ্তারে সারা দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান গণামধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে এই ঘটনায় ওই থানার বর্তমান ওসি মহিবুল্লাহকে ক্লোজ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে ক্লোজ করে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় একটি মামলায় ওসি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এর মধ্যেই তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সব কটি ইউনিট।
থানার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হত্যা মামলার আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে হাজতখানায় না রেখে থানার একটি কক্ষে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার উত্তরা পূর্ব থানার ওই কক্ষ থেকে পালান শাহ আলম।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘পলাতক ওসি শাহ আলমকে ধরতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সব ইউনিট কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, আমরা খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব।’
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এমন সময় তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে একজন এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন শাহ আলম। গত বছরের ১ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানায় যোগদান করেছিলেন তিনি।
এদিকে জানা গেছে, টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়েছিল মো. শাহ আলম।
তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে পরিদর্শক কুষ্টিয়ায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিলেন। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার বিকালে কুষ্টিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাত সোয়া ১২টার দিকে থানায় নিয়ে আসে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিএমপি পুলিশের একটি দল বুধবার বিকালে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস এলাকা থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে। সেই অভিযানে ছিলেন উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন শরীফ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ. জব্বার, কনস্টেবল বিল্লাল ও সোহেল। কুষ্টিয়া থেকে বুধবার মধ্যরাতে তাকে উত্তরা পূর্ব থানায় এনে হেফাজতে রাখা হয়েছিল।