শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১০৯ পড়া হয়েছে

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় বেড়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। যেখানে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭২ কোটি টাকা সেখানে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৬২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮শ ৯৬ টাকা টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে ব্যাংকটির সাব স্ট্যান্ডার্ড লোন ১ হাজার ২৪৩ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৭শ ৭৬ টাকা। যা শ্রেণিভুক্ত ঋণের ৩.০১ শতাংশ। ডাউটফুল ঋণ রয়েছে ২৭১ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩শ ৫৫ টাকা। এছাড়া ব্যাংটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের রিপোর্ট অনুসারে ব্যাড লস রয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭শ ৬৫ টাকা। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে ক্লাসিফাইড লোনের হার ছিল ৪.১৪ শতাংশ। এরপর ২০২৪ এর ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে এর হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫.২৮ শতাংশ ৩০ জুন দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬.০৩ শতাংশ। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে গত সেপ্টেম্বর-৩০ এ তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ব্যাংটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় ব্যাংকটিকে ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের হিসাবে এই হার অনেক কমেছে।

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সমাপ্ত বছরে তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ২০৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মোট লোনের পরিমাণ কমলেও উচ্চমাত্রায় বেড়েছে খেলাপি ঋণের হার। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত ডাচবাংলা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে তাদের ব্যাড লস (কু-ঋণ সঞ্চিতি) ছিল ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। এসময় তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ৫শ ১০ কোটি টাকা। আর ২০২৩ এ সমাপ্ত বছরে এর পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। তুলনা করলে দেখা যায় ব্যাংকটি বিগত বছরের চেয়ে কম ঋণ সম্প্রসারণ করতে পেরেছে। কুুঋণ সঞ্চিতির হার ২০২৩-এ ছিল ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে সাব-স্ট্যান্ডার্ড ও ডাউটফুল ঋণ ২০২৩ সালে যথাক্রমে ১৭২ কোটি ও ৪৪ কোটি থাকলেও এরপর থেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ক্লাসিফাইড ঋণের পরিমাণ যা প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মে হিসাব করলে সব ব্যাংকেরই ক্লাসিফাইড ঋণ বাড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বলা হয়েছে, প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করার কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে। খেলাপি ঋণ কমার যে দাবি ব্যাংকটি করেছে সেটি অযৌক্তিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, সকল ব্যাংকেরই খেলাপির পরিমাণ বাড়বে। তবে কিছু ব্যাংক ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা আছে সে দলে রয়েছে ডাচবাংলা ব্যাংক।

২০২৩ সালে সমাপ্ত বছরে কয়েকটি ব্যাংকের ক্লাসিফাইড ঋণের হারের সঙ্গে তুলনা করলেও দেখা যায় ডাচবাংলা ব্যাংকের অবস্থা নাজুক। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ২০২৩ সালে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। সিটি ব্যাংক লিমিটেডের এ হার ছিল ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ব্রাক ব্যাংকের খেলাপির হার ছিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারও ছিল অনেক কম ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যেখানে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এ হার ছিল ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ এর বার্ষিক প্রতিবেদন হিসাবে এ হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সকল ব্যাংক তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিবে। তখন প্রকৃত অঙ্কটি জানা যাবে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণ এবং ৩১ ডিসেম্বর-২০২৪-এ সমাপ্ত বছরের হালনাগাদ তথ্য জানতে চাইলে ব্যাংকটির তরফ থেকে প্রথমে তথ্য জানাতে চাইলেও পরে তারা অপারগতা প্রকাশ করে। এ কারণে যে, আগামী ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এটি এখন চূড়ান্ত সংশোধন সংযোজনের কাজ চলছে। এজন্য তথ্য পেতে আরও দু তিন দিন সময় লাগবে। তবে ব্যাংকটির একজন ঊর্ধŸতন কর্মকর্তা জানান সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকের ডিএমডিদের নেতৃত্বে ঋণ সংগ্রহে বিশেষভাবে জোড় দেয়া হয়েছে। তাতে খেলাপি ঋণের হার কমে এসেছে। তবে এই হার কত তা এই মুহূর্তে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে দেশের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগে খেলাপি ঋণের তথ্য লুকানো হতো, কিন্তু বর্তমানে এই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা বা তার বেশি হতে পারে। তবে, পুরো তথ্য প্রকাশ হলে এই ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটিরও বেশি হতে পারে।

তিনি জানান, খেলাপি ঋণের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ হতে পারে, তবে এখন আমরা সব তথ্য প্রকাশ করছি, যা আগে গোপন রাখা হতো।

এছাড়া, আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গত পাঁচ মাসের কার্যক্রমের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। হুসনে আরা শিখা বলেন, ভালো দিক হলো যে, আর্থিক ভীতি অনেকটা কমেছে। গত পাঁচ মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন, ব্যাংকিং টাস্কফোর্স গঠন, ডলার বাজার স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, আর্থিক খাতে পুরোপুরি স্থিতিশীলতা আসেনি, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এই কারণে খুব খুশি নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত জুন মাস শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। ওই সময় দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ সম্পর্কে হুসনে আরা শিখা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে খেলাপি ঋণ বেশি হয়েছে। আগে টার্ম লোনের গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাসে ছিল, এখন তা তিন মাসে করা হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024