আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) প্রধান নাওয়াফ সালামকে লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত করার পর সালামকে নতুন মন্ত্রিসভা ও সরকার গঠনের নির্দেশও দেন তিনি। এপি, সিএনএন।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) পার্লামেন্টে এমপিদের ভোটের ভিত্তিতে লেবাননের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন আউন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণের জন্য সোমবার আবার ভোট দেন এমপিরা। লেবাননের পার্লামেন্টের মোট আসনসংখ্যা ১২৮টি।
এক প্রতিবেদনে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, এই এমপিদের মধ্যে ৮৪ জন নাওয়াফ সালামের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নাওয়াফ সালাম বর্তমানে লেবাননের বাইরে আছেন। তবে আজই তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট আউনের এ ঘোষণার মাধ্যমে লেবাননে প্রায় দুই বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটল। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা নাওয়াফ সালামের এ মনোনয়নকে পশ্চিম এশিয়ার সংকটে জর্জরিত এ দেশটির জন্য চমকপ্রদ পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেছেন। এর প্রধান কারণ গত দুই বছর ধরে লেবাননে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা সামাল দেওয়ার মতো শক্তি সেই সরকারের ছিল না। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে লেবাননের প্রেসিডেন্টের পদও খালি ছিল।
এদিকে সালামের প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্র হিসাবে পরিচিত শিয়া রাজনৈতিক দল আমালের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নাজিব মিকাতির প্রতি তাদের সমর্থন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লকের নেতা মোহাম্মদ রাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, সালামকে মনোনীত করার পদক্ষেপ দেশে ‘বিভাজনের’ বীজ বপন করছে।
তিনি আশা করেন যে, মন্ত্রিসভা দেশের স্বীকারোক্তিমূলক ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিকে সম্মান করবে। জাতীয় স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগের জন্য হিজবুল্লাহ শান্তভাবে এবং বিজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য সোমবার এমপিদের যে ভোট হয়েছে সেখানে কোনো শিয়া আইনপ্রণেতা ভোট দেননি। তাই সরকার গঠন হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তার পথ তেমন মসৃণ হবে না বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।