শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

নির্বাচন ও সংস্কারের পথে সরকার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৮২ পড়া হয়েছে

বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশের সামনে কত চ্যালেঞ্জ পার করতে হচ্ছে সেটাই এখন নানামাত্রিক কর্মযোগ। শুধু কি নির্বাচন? সঙ্গে পুরনো বহু অপসংস্কার কাঠামোর গভীরে জিইয়ে আছে। যা সমূলে উৎখাত ছাড়া কোনো প্রক্রিয়াই স্বাভাবিক গতিতে এগোবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বিভিন্নভাবে নির্বাচনের পথকে সুগম করতে নতুন কর্মবিধির সূচনা সময়ের ন্যায্যতা। সাংবিধানিক কাঠামোকে আধুনিক মাত্রা দিতেও কিছু সংস্কার তো অতি আবশ্যক। আবার যে কোনো সমাজে যুগে যুগে আইনি কাঠামোর শক্ত ভিত্তি দেশ ও জাতিকে সুসংবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে নির্ণায়কের ভূমিকায় নামে। যা শুধু ক্ষমতার রদবদল কিংবা ভারসাম্য নয় বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক লাগাতার কর্মবিধি। এর ব্যত্যয় সাধারণ মানুষের জন্য মঙ্গলজনক তো নয়ই। বরং সুষ্ঠু, স্বাভাবিক আর নিয়ম-শৃঙ্খলার অধীনে থাকা জাতির জন্য আশীর্বাদ। বর্তমানে রাজধানীর যাত্রাপথে যানজট এক কঠোর অব্যবস্থা, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তটস্থ করে দেয়। পুলিশি কার্যক্রমও সেভাবে রাস্তাঘাটে দৃশ্যমান নয়। জাতীয় নির্বাচনই যখন জরুরি বিষয় সঙ্গতকারণে সংসদীয় গণতন্ত্রও আলোচনা পর্যালোচনায় চলে আসছে। সেখানে আসন সংখ্যা বিবেচনায় উচ্চকক্ষ আর নিম্ন কক্ষকে বিভাজনের নিরিখে সামনে আনা হচ্ছে। নিম্নকক্ষে আসন সংখ্যা থাকবে ৪০০। এখানেই ১০০ আসন সংরক্ষিত নারী সংসদদের জন্য রাখা হবে। যারা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসন অলঙ্কৃত করবেন। আর উচ্চকক্ষে নির্ধারিত আসন ১০৫। যার মধ্যে ৫টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারে। নির্বাচনের আগে পুরনো সংবিধান নব সংস্কারের আধুনিক নিরপেক্ষ এবং যুগোপযোগী হয়ে মান্ধাতা আমলের বহু অনিয়ম, দুর্নীতি, যুক্তিহীনতার অবসান ঘটাবে। আবার আইনি ধারা যৌক্তিকভাবে সময় ও আধুনিকতার অনুষঙ্গ হবে। এটা শুধু একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকেরই বিষয় নয় বরং আবহমানকালেরও এক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। পরিবর্তন, পরিবর্ধন, নতুন সময়ের বরমাল্য সবই নিয়মনীতিতে পরিচালিত হয়। তবে লাগাতার ১৫ বছরের একনায়কতন্ত্রের যে অশুভ আস্ফালন সেটা যেন কোনোভাবেই আর পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে সেখানেই সতর্ক, সাবধানতায় উপস্থিত সংস্কার প্রক্রিয়ার কর্মবিধি জাতিকে নতুন পথ দেখানোর নির্ণায়ক শক্তি হওয়াও বাঞ্ছনীয়। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার, সংযোজন, বিয়োজন নতুন সমাজ গঠন প্রক্রিয়ার নব আঙ্গিক তো বটেই। তবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের আবেদন, প্রস্তাবনা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রত্যাশিত দাবির মধ্যে আটকে পড়ে ছিল। কারণ ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার তৈরি হওয়ার আগে যা ছিল তা কোনোভাবেই সঠিক, নিয়মানুগভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি বলে অনুসন্ধানী নানা প্রতিবেদনে দৃশ্যমান হয়। কারণে-অকারণে সাংবিধানিক দৌর্বল্যই শুধু নয়, শাসনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বহুমাত্রিক সংকট আর সমস্যাকে লালন করেই এগিয়ে যায়। সেটাও ছিল আর এক অসহনীয় দুর্বিপাক। উল্লেখ করতে চাই আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক ষোড়শ শতাব্দীর নব জাগরণীয় অগ্রদূত ম্যাকিয়াভেলির অসাধারণ এক যৌক্তিক আর পাণ্ডিত্যের স্ফুরণে চিরস্থায়ী বাণী- সকল ক্ষমতা মানুষকে বিকৃত করে চরম ক্ষমতা চরমভাবে ধিক্কৃত করে। যা আজও সময়ের অগ্রগতিতেও যথার্থ শাসন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়ে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বিরোধী কট্টর শাসন কায়েম জাতিকে পথভ্রষ্ট করে। ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন অপসৃত হয়। কিশোর অপরাধ বেড়ে যায়, নারী নিগ্রহ সমাজ অগ্রগতিতে কালো দাগের মতো চিহ্নিত হয়ে থাকে।

পাশাপাশি স্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য লাগাম ছাড়া হয়। অদৃশ্য বাজার সিন্ডিকেট মাথা চাড়া দেয়। সাধারণ মানুষের যাপিত জীবন নাভিশ্বাস হওয়ার দুর্ভোগ। সেই ১৭৬০ সালের শিল্পবিপ্লবের আধুনিক জগতেও এমন সব দুর্যোগ পুরো সামাজিক, রাজনৈতিক আর যন্ত্রবিপ্লবের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। উল্টোরথের হরেক বিপর্যয়। বাংলাদেশ দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন অপসংস্কারকে পাল্টানোর গঠন প্রক্রিয়ায় বর্তমানে নতুন পরিবেশ পরিস্থিতিকে সামলানোতে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজটা যত সহজে বলা গেল- কাঠামোয় তাকে এগিয়ে দেওয়া কঠিনতম বিষয়। তার পরেও থেমে থাকা সমুচিত কিংবা বাঞ্ছনীয় নয়। সব দৌর্বল্য আর অপঘাতকে দৃঢ় মনোশক্তি আর প্রয়োজনীয় কর্মদ্যোতনায় সামনে নিতে না পারলে সমস্যা যে গভীরে সেই তিমিরে থাকার আশঙ্কা রয়েই যাবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে আশান্বিত নির্বাচন আগে দিতে হবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকারই সাংবিধানিকভাবে সংস্কার প্রক্রিয়াকে অবারিত করবে। যা নতুন পরিস্থিতির অপরিহার্য এক কর্মসাধনা। তবে বর্তমানে নির্বাচনী রোডম্যাপ, তৈরিও এক অবধারিত কর্মযজ্ঞ। ধারণা করা যাচ্ছে ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ ধরা হলেও বাস্তব কাজকর্মের জন্য অবশ্যই জাতিকে অপেক্ষা করতে হবে। ততদিনে আর কত দুর্ভোগ, দুর্বিপাক কিংবা স্বস্তি আর নিরবচ্ছিন্ন যাত্রাপথ দেশকে কোন অবস্থায় নিয়ে যাবে সেটাও সময় সাপেক্ষ বিষয়। তবে সবার আগে অত্যন্ত জরুরি নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, আধুনিকায়ন। যা লাগাতর অপশাসন টিকিয়ে রাখতে নানামাত্রিক অপকৌশল ও কাঠামোর ভেতরে এখনো সক্রিয়। তেমন সব বিপত্তির অবসান হওয়া জরুরি। সেটাই এখন মূল লক্ষ্য বিবেচিত হলে দেশ ও জাতির আগামীর যাত্রাপথ কোনো এক শুভ উদ্দেশ্যে চালিত হবে। যা জনগণকে নতুন পথই নয় আধুনিক প্রযুক্তির বাংলাদেশকে বিশ্বমানের অনন্য শিখরে নিতে দেরি হবে না। তবে দুই প্রথিতযশা অর্থনীতি বিশারদ রহমান সোবহান আর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে তাদের মূল্যবান অভিব্যক্তি জনগণের সামনে নিয়ে এসেছেন। তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করলেন উচ্চাক্সক্ষাকী সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবে প্রয়োগ করতে সময় ক্ষেপণ করতে হচ্ছে। তারা অনেকের মতো আরও বললেন, এই মুহূর্তে যথাসময়ে নির্বাচন দেওয়াই সঙ্গত এবং আবশ্যক। নির্বাচনও অতি সহজে সম্পন্ন হওয়ার কোনো বিষয়ই নয়। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে সবার আগে। তাই নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা আসাও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম। যা কোনোভাবেই তড়িঘড়ি অবস্থায় সম্পন্ন করাও জাতির জন্য নতুন কিছু নিয়ে আসবে না। ঠান্ডা পরিবেশে, যৌক্তিক কর্মবিধিতে নতুন যাত্রাপথ তৈরি আর এক কঠিন বলয়। বর্তমানে দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথ উত্ত্যক্ত আর উত্তপ্ত হতে সময় লাগছে না। এখন তো আসলে দাবি-দাওয়া আদায়ের সময়ও নয়। যার পুরো এখতিয়ার একটি সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকারের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাময়িক ব্যবস্থাপনায় একটা নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন দিতে তার যৌক্তিক কার্যক্রম পরিচালিত করাই হবে পরিস্থিতির ন্যায্যতা। এখানে প্রায়ই সমসংখ্যক নারীর জন্য ১০০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন আলোচনায় এসেছে। তবে বিভিন্ন কারণে নারী সমাজের রাজনৈতিক অসচেতনতা তাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। নারীদের রাজনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর দাবি নারী সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের। সেই ১৯৯১ থেকে ২০২৪ জুলাই পর্যন্ত লাগাতর নারী নেতৃত্বের শাসন দৃষ্টিনন্দনভাবে দৃশ্যমান হলেও রাজনৈতিক চেতনা শক্তির বিকাশ, দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে সার্বিক প্রেক্ষাপট সমতার আলোকে সামনে চলে আসতে সময়ক্ষেপণ হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024