প্রাক্তন ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই ছাত্রকে ১৩ বছর বয়সে যৌন নির্যাতন করে মা হয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনার দীর্ঘ বছর পর ওই শিক্ষিকার সন্তানের সঙ্গে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নিজের ছেলের চেহারার মিল খুঁজে পান বাবা। পরে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন তিনি।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা লরা ক্যারন, নিউ জার্সির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যকার সময়ে ওই ছাত্রকে তার বাড়িতে এনে রাখেন। আর ওই সময়ে বাড়িতে ‘অনুপযুক্ত যৌন সম্পর্ক’ গড়ে তুলেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তেন। তার জন্ম ২০০৫ সালে। নিজ পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। তবে পরে নিজের ছেলে ও মেয়েকে ২০১৬ সালে কিছু সময়ের জন্য ওই শিক্ষিকার বাড়িতে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
সেই সময়, ক্যারন তার প্রাক্তন ছাত্রের সাথে ‘অনুপযুক্ত যৌন সম্পর্ক’ তৈরি করেন এবং পরে গর্ভবতী হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। ২০১৯ সালে ক্যারন সন্তানের জন্ম দেন। এ ব্যাপারে প্রসিকিউটরের অফিস বলেছে, যখন তাদের সন্তানের জন্ম হয়েছিল, তখন কথিত শিকারের বয়স ছিল ১৩ বছর এবং ক্যারনের বয়স ছিল ২৮ বছর।
এ ঘটনার বহু বছর পর ডিসেম্বরে একটি ফেসবুক পোস্ট দেখার পর ছেলেটির বাবা ক্যারনের সন্তানের সঙ্গে নিজের এবং তার ছেলের মধ্যে মিল খোঁজে পান। পরে এ ব্যাপারে অভিযোগ আনেন তিনি।
এ ব্যাপারে ছেলেটির বোন প্রসিকিউটরদেরকে জানিয়েছে, তার ভাইয়ের সাথে একই ঘরে ঘুমাতে যাওয়ার কথা তার মনে আছে। কিন্তু এক বিছানায় ভাইয়ের সঙ্গে ঘুমালেও ঘুম থেকে জেগে তিনি ক্যারনের বিছানায় তার ভাইকে দেখতে পান। তার দাবি, ১১ বছর বয়সে ক্যারন তার ভাইয়ের সাথে থাকতে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রের বয়স ১৯ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
ক্যারনকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক আদালতে হাজিরা মুলতুবি থাকায় বর্তমানে কেপ মে কাউন্টি সংশোধনাগারে ক্যারনকে রাখা হয়েছে।