দেশের পুঁজিবাজারে ফের টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। টানা তিন কার্যদিবস কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি। আগের কার্যদিবসের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে সবকটি মূল্যসূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে দুই হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। আর প্রধান মূল্যসূচক কমে ৬০ দশমিক ৫১ পয়েন্ট। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে শেয়ারবাজার। কিন্তু চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার আবার দরপতন হয়। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে।
কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে এ ধারা। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের সঙ্গে সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২০৪টির এবং ৮৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে নেমেছে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ফের বাজারটিতে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫৬ কোটি ২৬ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১৩ কোটি ১ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে বড় ভূমিকা ছিল ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডের। টাকার অঙ্কে কোম্পানিটির ২২ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে ছিল এডিএন টেলিকম। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিলÑখান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ফারইস্ট নিটিং, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, অগ্নি সিস্টেম, ন্যাশনাল টিউবস ও ড্রাগন সোয়েটার। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়েছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।