শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বিএসইসির চেয়ারম্যানকে অপসারণসহ ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৭৪ পড়া হয়েছে

বিএসইসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ, গেইন-ট্যাক্স প্রত্যাহার ও ফোর্স সেল বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে বাংলাদেশ ক্যাপিট্যাল মার্কেট ইনভেস্টর এসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) উদ্যোগে এ মহাসমাবেশ করে তারা।

সংগঠনটির সিনিয়র মুখপাত্র এস এম ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর,সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ইসমাঈল হোসেন সম্রাট, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থ সম্পাদক দিদারুল আলম ভুঁইয়া, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য এহতেশাম হক, সংগঠনটির প্রধান মূখপাত্র নূরুল ইসলাম মানিক। এছাড়া সমাবেশে সারাদেশ থেকে আগত বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা বার বার দেখেছি যে, আওয়ামীলীগের সাথে এই শেয়ার বাজারের সম্পর্ক তালাকের সম্পর্কের মতো। আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসল, আমরা সাতানব্বই-আটানব্বই সালে দেখলাম বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর শেয়ারবাজার লুট এবং ধ্বস নেমেছে। লক্ষ লক্ষ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা শুধু ক্ষতিগ্রস্থ হন নাই, আমরা পত্র পত্রিকায় দেখেছি ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীরা ফ্যানের সঙ্গে গামছা এবং রশি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে দিল্লির সমর্থন নিয়ে ফ্যাসিবাদিরা যখন ক্ষমতায় আসল, তারা এক দুই বছরের ভিতরে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে করোনা ভাইরাসের মতো আক্রান্ত করে দিলো। যেভাবে বাংলাদেশকে তারা গত ষোল বছরে করোনার মতো আক্রান্ত করে লুটেপুটে ছিন্নমূলের মতো করে চলে গেছে, ঠিক একইভাবে এই ৩৩ লক্ষ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী পরিবারকে রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে বছরে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করে ইউরোপ আমেরিকায় হাজার হাজার কোটি টাকা দামের বাড়ি-গাড়ি, সম্পত্তি ও টেনিস কোর্ট তৈরি করেছে।

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল সেই সরকার আমাদের জনগণের সরকার হবে, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্দশা বুঝবে। গত ৫ মাসের যে অভিজ্ঞতা, সরকার জনগণের পালস বুঝতে পারছে না এবং জনগণের দুঃখ দুর্দশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারছে না। যার একটা উদাহরণ এই ভুক্তভোগী শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা।

তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই এই ১৫ বছরে যেই প্লেয়াররা শেয়াবাজার থেকে ভূয়া কোম্পানী বানিয়ে, আইপিও করে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেল তাঁদের দুই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানুষ আত্মহত্যা করেছে। এই সরকারের দ্বায়িত্ব হল ওই পরিবারগুলোকে ডেকে তাদেরকে সমবেদনা দেওয়া এবং গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা পথে বসে গিয়েছেন তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের পলিসি ও পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্বগ্রহণের পূর্বে আর্মির মেজর জেনারেল পদ মর্যাদার কাউকে বিএসইসির চেয়াম্যান হিসেবে দাবি করেছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীরা বলেন, ৩০ লক্ষ বিও একাউন্টহোল্ডারদের মধ্যে যাদের কিছু আছে তাঁরা বেচেঁ আছি, নিশ্বাস রাখতে পারছি। আর যাদের এ অবস্থা নাই তারা অনেকে আত্মহত্যা করেছেন কেউ কেউ মারা গেছেন। আমাদের কেউ কেউ হাসপাতালে আছে। কেউ দেখার নেই আমাদের।

সমাবেশে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ, গেইন-ট্যাক্স প্রত্যাহার, মার্কেটে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ, তালিকাভুক্ত কোম্পানীকে জেড ক্যাটাগরিতে পাঠানোর বিধান সংস্কার, কোম্পানীগুলোর আয়ের ন্যূনতম ৫০% লভ্যাংশ প্রদান করা, ব্যাংক, ফাইন্যান্স, ইন্স্যুরেন্স, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আইসিবিসহ পুঁজিবাজারে তাহাদের যতটুকু বিনিয়োগ করার কথা তা শতভাগ কার্যকর করা, টাস্ক ফোর্সের সংস্কারগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জানানো, কোম্পানীগুলোর ন্যূনতম শেয়ার ধারণ ৩০% কার্যকর করা, বিএসইসির দায়িত্বে অন্তত ১০টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাজারে নিয়ে আসা, তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানী পর পর ২ (দুই) বছর লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হলে তার বোর্ড পুনর্গঠন ও ফোর্স সেল বন্ধের দাবি জানান তারা।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024