শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

নিত্যপণ্যের ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৯৭ পড়া হয়েছে

দেশে শিল্পপণ্য রড, সিমেন্ট, টেউটিন, সিরামিক উৎপাদনে পরিচিত নাম আবুল খায়ের গ্রুপ। এবার ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় বিনিয়োগে মনোযোগী হয়েছে গ্রুপটি। গত এক বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ও সংকটে পড়া দুটি গ্রুপের তেল পরিশোধন কারখানা ক্রয় ও ভাড়া নিয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায় আসে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন আবদুল মোমেন গ্রুপের চিনি পরিশোধন কারখানা কিনে নিয়ে চিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে তারা। যদিও আবুল খায়ের গ্রুপ চা-পাতা, কনডেন্স মিল্ক ও গুঁড়া দুধের ব্যবসায় শীর্ষ ব্রান্ডের অবস্থানে রয়েছে।

এনবিআরের আমদানির তথ্যমতে, এক দশক আগেও প্রধান সাতটি নিত্যপণ্য আমদানির ৭৫ শতাংশ ছিল শীর্ষ পাঁচ শিল্প গ্রুপের। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের বাজারে এই অংশীদারির চিত্র ধীরে ধীরে বদলে গেছে। নিত্যপণ্যের বাজারে গত কয়েক বছরে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন শিল্প গ্রুপ। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থানও পাল্টে গেছে গত বছর। একটানা কয়েক বছর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেঘনা গ্রুপ ২০২৪ সালে শীর্ষস্থানে ওঠে এসেছে। শীর্ষে থাকা সিটি গ্রুপ নেমেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। একসময় শীর্ষ পাঁচের মধ্যে থাকা এস আলম গ্রুপ ও বসুন্ধরা গ্রুপও ছিটকে গেছে সেরা পাঁচের তালিকা থেকে। তবে তৃতীয় অবস্থানে চট্টগ্রামের টিকে গ্রুপ। এ পাঁচ গ্রুপের মোট ভোগ্যপণ্য আমদানির বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ৭৫ শতাংশ। ২০২৪ সাল শেষে তাদের বাজার অংশীদারিত্ব নেমেছে ৬০ শতাংশে। এ সময়ে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্য, প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের বড় প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নির্মাণ খাতের শিল্পপণ্য উৎপাদনকারী গ্রুপ আবুল খায়ের গ্রুপের সহযোগী স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস, আকিজ গ্রুপের আকিজ ইনসাফ, আকিজ রিসোর্সেস ও আকিজ ভেঞ্চারও, টিকে ও সীকম গ্রুপের যৌথ প্রতিষ্ঠান ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, মাহবুব গ্রুপ এবং এসবি গ্রুপ।

আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠান স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দুই দশক ধরে নিত্যপণ্য আমদানিতে যুক্ত ছিল। শুরুর দিকে পরিশোধিত তেল, চিনি, ডাল ও গম আমদানিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও প্রায় দুই দশক বন্ধ ছিল। পরে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ভোজ্যতেল বাজারজাতে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ে গ্লোব, এমইবি গ্রুপ এবং এসএ গ্রুপের পরিশোধন কারখানা ভাড়া করে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে গ্রুপটি নারায়ণগঞ্জের চালু থাকা ভোজ্যতেলের একটি কারখানা এবং চিনি পরিশোধনের একটি কারখানা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে স্মাইল ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বিভাগের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস বছর খানেক আগে পরিশোধনকৃত ভোজ্যতেলের বাজার আসে। এখন পরিশোধনকৃত চিনির ব্যবসায় আসছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের চারটি ভোজ্যতেল ও একটি চিনি পরিশোধনের কারখানায় বিনিয়োগ করেছে।

ভোক্তা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচের দেশেগুলো তেমন উৎপাদন হয না। কিন্তু তাদের দেশের পণ্য দর ওঠানামা তেমন নেই। এমনকি পণ্যেও সংকটের পরিবর্তে অতিরিক্ত পণ্যে বাজার সয়লাব থাকে। তাই আমাদের নিত্যপণ্যের বাজারে আমদানিকারক ও উৎপাদক বাড়াতে হবে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে বাজারে সরবরাহ বাড়ে। এতে ভোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কেনার সুযোগ পাবে। আবার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মানেও নজর দিতে হয়। এর জন্য সরকারকে ভোক্তাস্বার্থ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে আইনি কাঠামো সংস্কার করা দরকার, যাতে আরও অধিকসংখ্যক কোম্পানি এ বাজারে যুক্ত হতে পারে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024