শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

জীবন নিয়ে চরম হতাশ, এই ১০ সিনেমা একবার হলেও দেখুন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫
  • ১০৭ পড়া হয়েছে

মানুষের জীবনে বিনোদনের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ থাকলেও সিনেমাকেই ধরা হয় প্রথম এবং প্রধান উপকরণ। তবে এই সিনেমা কিন্তু সব সময় কেবলমাত্র বিনোদনের উপায় হিসাবেই কাজ করে না। দুনিয়াতে এমন কিছু মাস্টারপিস সিনেমা রয়েছে যেগুলো দেখলে মানুষ তার নিজেকে আবার নতুন করে আবিষ্কার করতে শিখে। এসব সিনেমার চরিত্রের মধ্যে অদ্ভুত কিছু জীবন লুকিয়ে থাকে। এই সিনেমাই পারে মানুষকে হাসাতে, কাঁদাতে আবার মন ভালো করে দিতে। হতাশায় বিপর্যস্ত হয়ে যে মানুষটা নিজেকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেও হয়ত এসব মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দেখার পরে ভাবে- আরেকটু চেষ্টা করে দেখি ই না!

এভাবেই যুগে যুগে সিনেমা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, কখনো আবার মনে গভীর দুঃখের জন্ম দিয়েছে। আজ এমন কিছু সিনেমার সম্পর্কে জানাবো আপনাদেরকে যেগুলো দেখলে মনে হবে, জীবনকে আমরা আসলে যেভাবে দেখি বা ভাবি জীবন কিন্তু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের বিস্তৃতি অনেক দূর পর্যন্ত। জীবনকে সঠিকভাবে জানতে হলে বই, সিনেমা অথবা ভ্রমণ আপনাকে যতটা আপনাকে সাহায্য করতে পারবে সেটা অন্য কেউ পারবে না। চলুন তাহলে জেনে নিই এমন দশটি সিনেমা সম্পর্কে যেগুলো আপনার আবার নতুন করে বাঁচতে শেখাবে। জীবনকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।

১. ইনটু দ্য ওয়াইল্ড

সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা বই থেকে বানানো এই সিনেমাটি। মুক্তির পরে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েনি সেটা ঠিক। কিন্তু ধীরে ধীরে এই সিনেমার কথা লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পরে। এই সিনেমাটি ক্রিস্টোফার নামের এক তরুণকে নিয়ে। বাবা-মায়ের সম্পর্কের অস্বাভাবিকতা এই তরুণের জীবন একটা সময় প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে, জীবন নিয়ে তিনি চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।এরপর একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এই জীবন সংসার থেকে নিজের গুটিয়ে নিয়ে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাবেন। বন্ধুত্ব করবেন বিশাল এই প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে। এরপর একদিন তিনি নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য যাত্রা করেছিলেন আলাস্কার ধূসর প্রান্তরে। এমনই অসাধারণ গল্পে নির্মিত মাস্টারপিস এই সিনেমাটি।

২. থ্রি ইডিয়টস

আলোচিত এই সিনেমাটি দেখেনি- এমন হয়ত খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন হবে বাংলাদেশে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে প্রিয় বলিউড সিনেমার কথা জিজ্ঞেস করলে, অধিকাংশই সাত-পাঁচ না ভেবে অকপটে থ্রি ইডিয়টস সিনেমার নাম বলে দেবে। ২০০৯ সালে মুক্তির পর পরই আমির খানের এই সিনেমা সিনেপাড়ায় জমিয়েছিল ব্যাপক হৈ-হুল্লোড়। হিরানি তার চমকপ্রদ প্রদর্শনীতে বুঁদ করে রেখেছিল ছেলে-বুড়ো সকলকে। মুক্তির পাক্কা একযুগ পার হয়ে গেলেও থ্রি ইডিয়টস তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এখনো, হয়ে গেছে বলিউডের কাল্ট-ক্লাসিক।

হাস্য-রসের ছলে এই সিনেমা আমাদের বলেছে জীবনের নিগূঢ় অর্থ। জীবন মানে রেস নয়, বুঝে না বুঝে ছুটে চলার নাম নয়। অনেকেই হয়ত জানেন না, আমির খান যে ফুংসুক ওয়াডুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনের তিনি ছিলেন একজন প্রকৌশলী। যার আসল নাম সোনম ওয়াংচুক।

এই সোনম ওয়াংচুক লাদাখে তিনি একটি স্কুল নির্মাণ করেছেন, যেখানে পুথিগত বিদ্যা বাদ দিয়ে সব হাতে কলমে শেখানো হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের লে জেলার এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সোনম নিজ প্রচেষ্টায় শ্রীনগর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠ চুকান। তখন তিনি নিজ গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দিতে গিয়ে দেখেন, সেখানে দশম শ্রেণি পাশের হার মাত্র ৫%। এই সমস্যা সমাধানে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ভর্তি হলে দশম শ্রেণীতে ফেল করা হবে। এরপর থেকে শুরু হয় সোনমের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ। পিছিয়ে পড়া লাদাখি সমাজের উন্নয়নে তার ম্যারাথন লড়াই আজ সারা পৃথিবীর অনুপ্রেরণা। বাকি গল্প সকলেরই জানা।

৩. ওয়ান সেভেন্টি আওয়ার্স

এই সিনেমায় দেখা যায়, আমেরিকান এক যুবককে যার নাম অ্যারোন লি। পেশায় একজন মেকানিক্যাল ইনঞ্জিনিয়ার। এই যুবকটির একমাত্র নেশা হলো অ্যাডভেঞ্চার। পাহাড়ে চড়ার সুযোগ পেলে তার আর কিছুই লাগে না। এমনই এক একাকী অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপে তার একটি হাত আটকে যায় গিরিখাতে ঢালে এক পাথরের ফাঁকে। যার ফলে, বাহিরের পৃথিবীর সঙ্গে তার সব রকমের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মাথার উপর দিয়ে মাঝে মাঝে বিমান যাচ্ছে কিন্তু অ্যারোন লি’কে দেখতে পাচ্ছে কেউই। এই নরক থেকে লি মুক্ত হতে পারবে তো!

অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা যাদের প্রিয় কিংবা সারভাইভাল মিশন ঘরানার সিনেমা যারা পছন্দ করেন তারা কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই দেখতে পারেন সিনেমাটি দেখার জন্য। এই সিনেমাটি আপনাকে হাড়েহাড়ে বুঝিয়ে দেবে যে, এই দুনিয়াতে টিকে থাকার চেয়ে আর বড় কিছুই নেই।

এই সিনেমাটি দেখার পর আপনার কাছে জীবনকে অনেক বেশি সুন্দর মনে হবে, ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছা করবে।

৪. দ্য পিয়ানিস্ট

সত্য ঘটনার অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটির গল্প এগিয়ে গিয়েছে ‘ওয়াডিসোওয়াফ স্পিলম্যান (Wladyslaw Szpilman) নামক এক পোলিশ-ইহুদী পিয়ানোবাদক এর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অধিকৃত পোল্যান্ড এ বেঁচে থাকবার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। বিখ্যাত এই ক্লাসিক এ যুদ্ধকালীন পোল্যান্ড এ নাৎসি নিষ্ঠুরটা যেমন উঠে এসেছে তেমনি ঠিক সমান্তরালভাবে চলে এসেছে স্পিলম্যানের যুদ্ধকালীন ভয়াবহতায় পরিবার পরিজনহীণ বেঁচে থাকবার গল্প।

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটি ৭৫ তম অস্কার এর আসরে সেরা পরিচালক (পোলানস্কি), সেরা চিত্রনাট্য (রোনালড হারউড) এবং সেরা অভিনেতা (এডরিয়েন ব্রডি) এর পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়াও ২০০২ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পাম’ ‘ডি অর’ জয় করে এই অসাধারণ ক্লাসিক এই সিনেমাটি।

৫. সেভিং প্রাইভেট রায়ান

এই সিনেমাটিও দ্বিতীয় বিশ্ব নিয়ে নির্মিত। পরিচালক হিসেবে স্টিভেন স্পিলবার্গের সুখ্যাতি জগৎজোড়া। সুতরাং তিনি যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে ফিল্ম বানান, তাহলে সেটা যে বাকি সব ফিল্মের চেয়ে আলাদা হবে তাতে আর সন্দেহ কী! স্পিলবার্গ তার নামের মর্যাদা রেখেছেন, রায়ানকে বাঁচানোর গল্প তিনি বলেছেন তার মতো করেই। ইতিহাস ও বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তার জন্য কিছু তেতো সত্য বলতেও দ্বিধা করেননি। শত্রুর প্রতিরক্ষা বূহ্যভেদ করে আমেরিকান যোদ্ধা রায়ানকে বাঁচানোর যে প্রাণান্ত চেষ্টা সেটা দেখে জীবন নিয়ে আপনার সমস্ত বিতৃষ্ণা কেটে যাবে।

৬. চিলড্রেন অব হেভেন

ইরানি এই সিনেমায় দেখানো হয় আলী তার বোন জারার ময়লায় মলিন ছেড়া জুতা জোড়া বাজারে ঠিক করতে এনে হারিয়ে ফেলে। এমনিতেই অভাবের সংসার। অসহায় নির্বাক মনে বাড়ি ফিরে বোনকে নতুন জুতা দেবার আশ্বাস দেয় এবং বাবা মা থেকে জুতা হারানোর বিষয় গোপন রাখতে অনুরোধ করে! বোনের বেদনা কিছুটা লাঘব করার প্রচেষ্টায় আলী তার নিজের পেন্সিল এবং ক্লাসে দ্বিতীয় হওয়ার পুরস্কার নীল কলম দিয়ে দেয়।

জারা নতুন জুতা পাওয়ার আশায় আলীর বেমানান জুতা পায়ে মর্নিং শিফটে ক্লাস করে এবং স্কুল ছুটির পর দৌড়ে এসে আলীর স্কুলে যাবার পথে জুতা বদল করে তার দেওয়া কথা অনুযায়ী বাবা মা থেকে জুতা হারানোর কথা গোপন রাখে।

অসহায়ত্ব যখন মানুষের দ্বার প্রান্তে এসে হানা দেয়, কঠিন বাস্তবতার সম্মুখে বেদনাগুলোও তখন অনেক আনন্দের বস্তুতে পরিণত হয়। ভাই বোনের ভালোবাসা আর একে অপরের প্রতি সহানুভূতির দৃশ্যটা আসলেই চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে উক্ত সিনেমায়।

এদিকে আলীর স্কুলে নিয়মিত অনিয়ম এবং দেরিতে গমন প্রধান শিক্ষকের নজর এড়াতে পারেনি। এর দরুন আলীকে কঠোর শৃঙ্খলার কথা শুনতে হয়। অন্যদিকে জারাও বিরক্ত প্রতিনিয়ত ভাইয়ের বেমানান জুতা পরে স্কুলে যাওয়া নিয়ে! আবার নিজেরই হারানো জুতা জারার নিজেরই ক্লাসমেট রয়া’র পায়ে দেখে অবাক হয়।

অবশেষে সুযোগ আসে আলীর! শহরের দৌড় প্রতিযোগিতায় হাজার হাজার প্রতিযোগীর মাঝে আলীর লক্ষ্য ৩য় স্থান। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত আলী হয়ে যায় ১ম। বিবর্ণ মুখ নিয়ে বাড়ি ফিরে জারার সামনে আসতেই জারা আলীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়!

সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের হক তো আর থেমে থাকে না! সিনেমার শেষ অংশে দেখা যায়, আলীর বাবা নতুন সাইকেল সাথে দুই জোড়া নতুন জুতা নিয়ে বাজার থেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

৭. কাস্ট অ্যাওয়ে

এই সিনেমায় দেখানো হয়, এক ভ্যাগ্যাহত ব্যক্তি- চাক নোল্যান্ড (টম হ্যাংক্স), বিমান দূর্ঘটানার শিকার হয়ে আটকে পড়েন প্রশান্ত মহাসাগরের কোন এক বাস-অযোগ্য দ্বীপে। পেশায় তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করেন ফেডারেল এক্সপ্রেস নামের এক কুরিয়ার সার্ভিসে। প্রচণ্ড সময়সচেতন চাক ঘুরে বেড়ান সারা পৃথিবীতে। সমাধান করেন বিভিন্ন সমস্যার। প্রেমিকা কেলির সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে না এই সময়ের অভাবেই। সেই চাকই ভাগ্যের বরাতে আটকে যায় সমুদ্রবেষ্টিত এক দ্বীপে। সেখানে কাটানো চাকের চার বছর আর ফিরে আসাটাই এ সিনেমার গল্প।

৮. লাইফ ইজ বিউটিফুল

ইতালিয়ান এই সিনেমাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত।অসাধারণ গল্পের এই সিনেমাটি ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ইতালিতে মুক্তি পায়। এই সিনেমাটি দেখার পর যে কেউ বলতে বাধ্য হবেন যে এটা একটা মাস্টারপিস মুভি।

এই সিনেমাটির গল্পের নায়ক গুইডু ও তার প্রেমিকা ডোরার প্রেম ও বিবাহ বন্ধন এর ঘটনা দিয়ে ঘটনার শুরু যাতে মিশে আছে হাস্যরসাত্মক ভাবনা।এর পরের অংশে গুইডু ও ডোরার একমাত্র ছেলে জোসুয়ার সঙ্গে তার বাবার মিথ্যা সাজানো গল্পের এক নির্মম ঘটনা।খুব অল্প করে বলতে গেলে এতটুকুই ঘটনা কিন্তু দেখার পর বোঝা যাবে জীবন কতটা নির্মম হতে পারে,যুদ্ধ কতটা আঘাত করে মানুষকে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একটি ইয়াহুদী পরিবারের উপর কেমন নির্যাতন করা হয়েছে তার খানিক বর্ণনা। সুখ যেমন চিরকাল থাকে না তেমনি দুঃখও চিরকাল থাকে না এই সিনেমা দেখলে তা হাড়ে হাড়ে বোঝা যাবে।

মুভিটির পরিচালক রবার্টো বেনিগিনি তার এই মুভিতে সকল দিক থেকে সফল একজন পরিচালক।পুরো মুভিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য নজর কেড়েছে গুইডো ও তার ছেলে জোসুয়া।পুরো মুভি দেখার পর আপনার মনের ভেতরটা পুরোপুরি ওলট পালট হয়ে যেতে বাধ্য।আসলে মন ছুঁয়ে যাওয়ার এ এক দারুণ উপাখ্যান এই সিনেমাটি।

৯. ফরেস্ট গাম্প

চারপাশের নানা ঘটনায় যারা জীবন নিয়ে চরমভাবে ত্যক্ত বিরক্ত তাদের জন্য এই সিনেমাটি। বার বার হেরে যাওয়া একটা মানুষ কী করে হাল না ছেড়ে জীবন যুদ্ধে লড়ে চলেছে- সেই গল্পই বলেছে টম হ্যাঙ্কসের এই সিনেমাটি।

সিনেমা শুরু হয় ১৯৮১ সালের কোন এক সময়ে বোকাসোকা সাদাসিধে ফরেস্ট গাম্প বাসস্ট্যান্ডে বসে পাশের অপরিচিত নারীকে নিজের জীবনের গল্প শোনাচ্ছে।

সিনেমায় দেখা যায়, ফরেস্ট গাম্প যখন বাচ্চা বয়েসর তখন তার শিরদাঁড়া বাঁকা বলে ডাক্তার তাকে লোহার রড যুক্ত স্পেশাল জুতো পরিয়ে দেয়।

ফরেস্টের মা তাকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যান, কিন্তু ফরেস্টের আইকিউ লেভেল কম থাকায় প্রিন্সিপাল ওকে অ্যাডমিশন দিতে চায় না। বাধ্য হয়ে ফরেস্টের মা প্রিন্সিপালের শারীরিক চাহিদা মিটানোর পরে ফরেস্টকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়।

ফরেস্টদের বাড়িতে শুধু ফরেস্ট আর ওর মা থাকতেন, কারণ ফরেস্টের বাবা ছিল না। ফরেস্টের মা সংসার চালানোর জন্য ওদের বাড়িটিতে হোম-স্টে হিসেবে নানান লোকেদের অর্থের বিনিময়ে থাকতে দিতো।

স্কুলের প্রথম দিনে স্কুল বাসে উঠার পরে ফরেস্টকে কেউ পাশে বসতে দিতে চায় না। ঠিক তখন একটি বাচ্চা মেয়ে ফরেস্টকে ডেকে তার পাশে বসতে দেয়। মেয়েটির নাম ছিলো জেনি। এরপরে জেনির সঙ্গে ফরেস্টের খুব ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায়। অবসর সময়ে ওরা একটা গাছের ডালে বসে নিজেদের মধ্যে গল্প করে।

জেনির মা ছিল না। তার বাবা ছিল মাতাল এবং অকারণেই সে জেনিকে শারীরিক অত্যাচার করতো। তাই পুলিশ এসে জেনিকে তার নানির বাড়িতে দিয়ে যায়। জেনির নানির বাড়ি ছিল ফরেস্টের বাড়ির খুবই কাছে। তাই রাতের বেলা যখন জেনি ভয় পেতো তখন সে ফরেস্টের ঘরে এসে এক সাথে ঘুমাতো। জেনিই ছিল ফরেস্টের একমাত্র বন্ধু।

দেখতে দেখতে ওরা বড় হয়ে উঠে। স্কুলের সেই ছেলেরাও বড় হয়ে গেছে। সেই ছোটবেলার মতো আবারও ছেলে গুলি ফরেস্টকে ঢিল ছুড়লে জেনির কথা শুনে আবারও ফরেস্ট দৌড়াতে শুরু করে। ফরেস্ট প্রচণ্ড গতিতে দৌড়ে স্কুলের রাগবি খেলার মাঠ পার হয়ে যায়।

ওর দৌড়ের গতি দেখে রাগবি কোচ ফরেস্টকে দলে নিয়ে নেয়। ফরেস্ট খেলা বুঝতো না, নিয়ম কানুন জানতো না, কিন্তু যখনই ওর হাতে কেউ বল তুলে দিতো ও দৌড়ে মাঠ পাড় করে ফলতো, কেউ ওকে ধরতে পারতো না। ফরেস্টের কারণে ওর দল সব সময় খেলায় জিতে যেতো। দেখতে দেখতে ফরেস্টের খেলার নাম ছড়িয়ে পরে। ফরেস্ট অল-এ্যামেরিকান রাগবি টিমে সিলেক্ট হয়ে যায়।

এই ভালো খেলার জন্যই বোকাসোকা ফরেস্টের আইকিউ কম থাকার পরেও একটি কলেজে পড়ার সুযোগ পায় এবং পাঁচ বছর পরে সেই কলেজ থেকে ডিগ্রি পেয়েছিল।

১০. দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন

শশাঙ্ক রিডেম্পশন সিনেমাটি একটি অনবদ্য আশার গল্প। হাল না ছাড়া এক ইনসেন মানুষের গল্প। যে মানুষ ১৯ বছর ধরে ছোট্ট একটা হাতুরি নিয়ে একটু একটু করে টানেল খুঁড়েছে জেল থেকে পালাবে বলে। পুরো মুভিতে এন্ডি দোষী না নির্দোষ, সেটা ঠিক বোঝা যায়নি। তবে যেটা পরিষ্কার হয়েছে, মানুষ চাইলে সব কিছুই সম্ভব।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024