বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতি চলছে। আজ সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এই কর্ম বিরতি পালন করছে।
গত কাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয় বুধবারের মধ্যে তারা পদত্যাগ না করলে তারা কর্ম বিরতি পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ রেজাউল করিমসহ সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মাহবুবুর আলম বলেন, বর্তমান কমিশন নিয়ে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ— কমিশনারদের খারাপ আচরণ, কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক শোকজ করা এবং নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ জারি করা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের কাছে ৫ দফা দাবি জানাই। তবে তারা এ দাবি মেনে নেয়নি। বরং আজকে সেনাবাহিনীদেরকে ভুল তথ্য দিয়ে ডেকে এনে তারা আমাদের কর্মকর্তাদের উপর লাঠিচার্জ করিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে পারছি না। তাই, আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করছি। তারা যদি বুধবারের মধ্যে পদত্যাগ না করেন তাহলে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) থেকে পুরো কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতী কর্মসূচি পালন করবেন। আমরা সরকারের কাছে গণমাধ্যমের মাধ্যেমে এ বিষয়টি তুলে ধরছি। সরকারকে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য বিএসইসির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি- এখানে (বিএসইসি) যোগ্য ও অভিলোক বসানো হোক। বাংলাদেশ ব্যাংকে যেমন অভিজ্ঞ অভিভাবক দেওয়া হয়েছে, আমরাও তেমন অভিভাবক চাই। যে অভিভাবক তাদের নিজেদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মন দিতে জানে না, তাদের সঙ্গে কভিাবে কাজ করা সম্ভব। আমরা তাদের দুর্ব্যবহার অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। আমারা যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আর সেটা যদি প্রমাণীত হয় তাহলে চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু সেটা না করে তারা এক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে আমরা জানিয়েছি। কিন্তু তারা সেটা শুনেনি। বরং তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।