ছোটবেলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বড় পর্দার অভিনয়ে দীঘি সবসময়ই ছিলেন আলোচনায়। তবে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীঘি এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা শোবিজের বাইরেও বহু কিশোর-কিশোরীর বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি যতটা ব্যক্তিগত, ততটাই গভীর এবং চিন্তার খোরাক জাগানিয়া।

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি
একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে দীঘি জানান, স্কুলজীবনের একপর্যায়ে—ঠিক ক্লাস টেনে পড়ার সময়—তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভিডিওটি ছিল একান্ত নিজের জন্য তোলা, কোনো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার ইচ্ছা তার ছিল না। কিন্তু বিশ্বাস করে যার ফোনে ভিডিওটি করেছিলেন, সেই বিশ্বাসভঙ্গ-এর কারণেই ভিডিওটি চলে যায় জনসমক্ষে।
দীঘি বলেন, “আমি যখন কোনো ভয়েস বা ভিডিও পছন্দ হতো, তখন আমি সেটা ফোনে সেভ করে রাখতাম। পরে যখন একটু সেজেগুজে কোথাও বের হতাম, তখন তার (ঐ ব্যক্তির) ফোন নিয়ে এক-দুইটা ভিডিও করতাম—লিপসিং ভিডিও। আমি সব ভিডিও প্রাইভেট করে রাখতাম।”
এই কথাগুলো বলতে গিয়েও দীঘির চোখেমুখে ছিল একটা স্পষ্ট ব্যথার ছাপ। কৈশোরে এমন ঘটনা কেবল একজন তারকার জন্যই নয়, যে কোনো কিশোরীর জন্য হতে পারে ভয়ের, লজ্জার ও আতঙ্কের কারণ। বিশেষ করে যখন তা ঘটে দেশের মতো একটি সামাজিকভাবে রক্ষণশীল পরিবেশে, তখন সেই মানসিক চাপের মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায়।

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি
তিনি আরও বলেন, “এসএসসি পরীক্ষার সময় ছিল তখন। আমি দেখলাম, হঠাৎ করে আমার একটা প্রাইভেট ভিডিও পাবলিক করে দেওয়া হয়েছে।” তার কথার মধ্যেই ছিল আতঙ্ক, হতাশা এবং এক ধরনের আত্মবিশ্বাসও—কারণ এখন তিনি সেই কষ্ট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারছেন।
এই ঘটনা শুধু দীঘির জীবনের একটা অধ্যায় নয়, বরং বর্তমান সময়ের তরুণদের জন্য একটি বড় শিক্ষাও বটে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আমাদের অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে, কিন্তু একইসঙ্গে এটি আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেও করেছে হুমকির মুখে। দীঘির অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি
সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্য সামনে আসতেই অনেকেই দীঘির সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। অনেকে বলছেন, একজন জনপ্রিয় মুখ হিসেবে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ খুলে তিনি নিঃসন্দেহে সমাজে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন—এই ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং যারা এমন কাজ করে, তাদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়।
তবে দীঘি স্পষ্ট করে দেননি, কে সেই ব্যক্তি ছিলেন। সম্ভবত তিনি বিষয়টি আর বাড়াতে চান না। বরং অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান নিজের কাজ ও স্বপ্ন নিয়ে। বর্তমানে দীঘি সিনেমায় কাজ করছেন, নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান আরও শক্তভাবে।

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি
এই অভিজ্ঞতা কেবল তারকাদের জন্য নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মেয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করার আগে দ্বিগুণ সতর্কতা, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা, আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের গল্প বলার সাহস।
দীঘি নিজের কণ্ঠে সে সাহস দেখিয়েছেন, আর তাতেই হয়তো অনেকেই আজ নিজেকে একটু বেশি নিরাপদ মনে করবেন।
সূত্র: https://www.facebook.com/reel/955033260135122