শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ভারত থেকে এলো ৩৬ হাজার টন চাল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৮২ পড়া হয়েছে

ভারত থেকে আমদানি করা সেদ্ধ চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল বিশাল চালান

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ৩৬ হাজার ১০০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। শনিবার (১২ এপ্রিল) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র (Global Open Tendering) পদ্ধতির আওতায় ভারত থেকে মোট ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজের আওতায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১৭ হাজার ৬১৯ মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। সর্বশেষ চালান হিসেবে ৩৬ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চাল বহনকারী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর মাধ্যমে এই আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাজে আনা চালের নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চালের গুণগতমান যাচাইয়ের পর খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। বন্দরে চাল খালাসের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

কেন এই চাল আমদানি?

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও বাজারে চালের স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে এই চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চলমান মৌসুমে কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে সরকার আমদানির পথকে একটি ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে।

এদিকে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গুদাম ও নির্ধারিত গন্তব্যে দ্রুত চাল পাঠানোর জন্য লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এই চাল ব্যবহার করা হবে বলে জানান তারা।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও বাজার প্রভাব

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই আমদানির খবরে বাজারে ইতিবাচক সাড়া পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। খুচরা বাজারে চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীলতা পেয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে সহায়ক হবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশ থেকে চাল আমদানির পাশাপাশি দেশের কৃষক ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ভারত থেকে পর্যায়ক্রমে চাল আমদানির এই কার্যক্রম সরকারের একটি বৃহৎ খাদ্য পরিকল্পনার অংশ। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গুণগতমানসম্পন্ন চাল সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাদ্য মজুত বাড়ানো সরকারের মূল লক্ষ্য। এই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সর্বশেষ চালান আগামী দিনগুলিতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024