টঙ্গীর শিলমন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই গোডাউন ও দোকানপাট, ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও ঘরবাড়ি
গাজীপুরের টঙ্গীর শিলমন বাজার এলাকায় সোমবার ভোরে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় একটি প্লাস্টিকের গোডাউন সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আশপাশের তিনটি দোকান এবং একটি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয় কয়েকটি বসতবাড়িও আংশিকভাবে পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি, তবে স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে গোডাউনটিতে রাখা দাহ্য বস্তুগুলো দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকান এবং বসতবাড়িগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ও মুখপাত্র শাহিন আলম জনকণ্ঠকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই প্রচুর পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায় এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কম নয় বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, যে প্লাস্টিক গোডাউনটিতে প্রথমে আগুন লাগে, সেখানে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং প্রস্তুত পণ্যসামগ্রী মজুত ছিল। এই দাহ্য বস্তুগুলো আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। পাশের দোকান তিনটিও প্লাস্টিক, কাঁচ ও জেনারেল পণ্যের ব্যবসা করতো। ফলে দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালপত্র সম্পূর্ণরূপে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শিলমন বাজার এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বাজারে থাকা দোকান ও গোডাউনগুলোর বেশিরভাগই ঘিঞ্জি এবং কাঠ, প্লাস্টিকসহ দাহ্য বস্তু দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য দায়ী।
অগ্নিকাণ্ডে আশপাশে থাকা একটি মসজিদের সামনের অংশ এবং টিনের চালের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুতই মসজিদের ভেতরের অংশ থেকে কোরআন শরিফসহ অন্যান্য পবিত্র জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও আশপাশের কয়েকটি বসতঘরের টিনের চাল, বেড়া ও আসবাবপত্রে আগুনের আঁচ লেগে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে।
ঘটনার পরপরই গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর এই শিলমন বাজার এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বারবার অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাজার এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।