বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যালয়ে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ঠিক দুপুর ১২টার সময় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রাঙ্গণে অবস্থিত বিসিবি সদর দপ্তরে উপস্থিত হন দুদকের একটি বিশেষ তদন্ত দল। তাদের এই উপস্থিতি ঘিরে বিসিবি চত্বরে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
দুদকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা যায়, এই অভিযান মূলত বিসিবির পুরনো প্রশাসনিক ফাইল এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এ টিকিট বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, বিপিএলের কিছু ম্যাচে টিকিট বাণিজ্যে অস্বচ্ছতা ছিল এবং অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি হয়েছে। সেই অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা বিসিবিতে প্রবেশ করেন।
দুদকের কর্মকর্তারা প্রথমেই বিসিবির ফিন্যান্স ও অ্যাডমিন বিভাগে প্রবেশ করে বেশ কিছু নথিপত্র জব্দ করেন। বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বিপিএল টিকিট সংক্রান্ত যাবতীয় দলিল, চুক্তিপত্র ও বিক্রয় রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ টিকিট এজেন্টদের তথ্য চাওয়া হয়েছে তদন্তের স্বার্থে।
শুধু টিকিট বাণিজ্য নয়, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের আমলে হওয়া কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়ে বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে এবং কিছু ব্যয় অস্বচ্ছ ছিল। যদিও এখনো এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি দুদক, তবে সূত্রমতে এই অভিযানের আওতায় এসব বিষয়ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
বিসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা দুদকের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। যদি কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এটা আমরাও চাই।”
এদিকে এই অভিযান নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে বিসিবির ওপর জনসাধারণের আস্থা থাকা দরকার। তাই যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগ যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন।
তবে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশে ক্রিকেট শুধুই একটি খেলা নয়—এটি একটি আবেগ, একটি জাতীয় পরিচয়। সেই আবেগ নিয়ে যারা খেলছেন, যারা সেটি পরিচালনা করছেন, তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড জনসাধারণের নজরে। আর সেই কারণেই বিসিবির মত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুদকের কর্মকর্তারা বিসিবি অফিসে অবস্থান করছিলেন। তারা তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।