বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড নতুন গতি ও নেতৃত্ব পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সিইও হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের আর্থিক খাতের পরিচিত মুখ ও অভিজ্ঞ পেশাদার সুমিত পোদ্দার।
দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতে সুমিত পোদ্দার দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত উৎকর্ষতার ছাপ রেখে এসেছেন। এমটিবি ক্যাপিটাল-এ যোগদানের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেড-এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সুমিত পোদ্দার তার পেশাগত জীবনে আরও কাজ করেছেন সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড-এ, যেখানে তিনি কর্পোরেট অ্যাডভাইজরি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া রিভারস্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড এবং অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে সুমিত পোদ্দার বলেন, “এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডের নেতৃত্বে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এটি দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, যার কার্যক্রমকে আরও বেগবান করে তুলতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের সুনাম, অগ্রগতি এবং ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির দিকগুলো নিশ্চিত করতে আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও ক্যাপিটাল মার্কেটের সম্ভাবনা অনেক, এবং সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এমটিবি ক্যাপিটালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
পেশাগত জীবনে সুমিত পোদ্দার বিশেষভাবে দক্ষ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) প্রক্রিয়া, কোম্পানি একত্রীকরণ ও অধিগ্রহণ, ঋণ এবং ইক্যুইটি অর্থায়ন, এবং লেনদেন পুনর্গঠনের মতো জটিল ও কৌশলগত আর্থিক লেনদেন পরিচালনায়। তিনি ক্লায়েন্টদের উপযোগী আর্থিক পরামর্শ ও কাস্টমাইজড সমাধান প্রদানে পারদর্শী।
তার পেশাগত দক্ষতা শুধু আর্থিক পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, সুমিত পোদ্দার বাংলাদেশের বিভিন্ন খাত—যেমন প্রযুক্তি, টেলিকম, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প ও উৎপাদন, রিয়েল এস্টেট এবং ভোক্তাপণ্য খাত—এ কার্যকরভাবে কাজ করেছেন। এসব খাতে তার অভিজ্ঞতা তাকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ক্লায়েন্টদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
এমটিবি ক্যাপিটালে তার এই দায়িত্ব গ্রহণ এমন এক সময় ঘটলো, যখন দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট চাঙ্গা হওয়ার আশায় আছে এবং বিনিয়োগকারীরা খুঁজছে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। সুমিত পোদ্দারের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানটির কর্মধারায় নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বায়নের যুগে অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। এমটিবি ক্যাপিটালের মতো প্রতিষ্ঠানে একজন প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অবশ্যই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে সাহসী ভূমিকা রাখবে। এবং সে নেতৃত্বে এখন রয়েছেন সুমিত পোদ্দার, যিনি অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার এক অনন্য মিশ্রণ।