সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার (২০ এপ্রিল) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিনের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। যদিও আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, তবে বাজারে সার্বিক মন্দাভাব অব্যাহত রয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ২২.৯৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,০৭৪.৩৮ পয়েন্টে। এটি গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় নিচের দিকেই অবস্থান করছে, যা থেকে বোঝা যায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
অন্যান্য সূচকগুলোর অবস্থানও ছিল নেতিবাচক। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মূল্যায়নে তৈরি ‘ডিএসইএস’ সূচকটি কমেছে ৮.৩০ পয়েন্ট, যা দিনের শেষে দাঁড়ায় ১,১৩৫.৫২ পয়েন্টে। একইভাবে ‘ডিএস৩০’ সূচক, যেখানে দেশের প্রধান ৩০টি কোম্পানির শেয়ারের গড় মূল্য প্রতিফলিত হয়, তা ২.৮৮ পয়েন্ট কমে ১,৮৭২.৭৮ পয়েন্টে নেমে আসে।
সূচকের পতনের মধ্যেও এদিন লেনদেনে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট ৩৫১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৩৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১১ কোটি টাকার মতো বেশি লেনদেন হয়েছে।
তবে এই লেনদেনের পরিমাণ এখনও বাজারের সুস্থ গতির জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সামান্য এই বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক বাজারচক্র বলেই দেখা উচিত, বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে নয়।
এদিন ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয় ডিএসইতে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০১টি কোম্পানির, আর কমেছে ২৪৩টির। অপরদিকে ৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, বাজারে বিক্রির চাপে থাকা কোম্পানির সংখ্যা ছিল বেশি। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, যার ফলে লেনদেনে ব্যাপকতা আসছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে। একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ—এসব কারণে বাজারে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসছে না। এছাড়া রেগুলেটরি পর্যায়ে স্থিতিশীল নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজার উন্নয়নের পরিকল্পনার অভাবও উল্লেখযোগ্য কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, স্বচ্ছতা এবং বাজার স্থিতিশীলতায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি এবং নির্ভরযোগ্য পণ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কজনিত বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় বিক্রি করছেন, আবার কেউ অনিশ্চয়তায় অবস্থান নিচ্ছেন। তবে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাছাই করা কোম্পানিতে লভ্যাংশ বিবেচনায় কিছুটা বিনিয়োগ করছেন বলে জানা গেছে।
সপ্তাহের শুরুটা নেতিবাচক হলেও সামনে কিছু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, ডিভিডেন্ড ঘোষণা এবং রমজান পরবর্তী ক্রয়চাপে বাজারে কিছুটা গতি আসতে পারে বলে আশা করছেন অনেকে। তবে এসব অনুকূল পরিস্থিতি কাজে লাগাতে হলে বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।