চা বোর্ডের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে তার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি চা রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও একই সময়ে উৎপাদন কমেছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ৮১ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। দেশে এত চা আগে কখনোই উৎপাদন হয়নি। তবে বছর বাদেই সেই সাফল্যে ছেদ পড়েছে।
২০২৪ সালে দেশে চায়ের উৎপাদন কমেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালে নয় কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। অর্থাৎ, আগের বছরের চেয়ে উৎপাদন কমেছে ৭২ লাখ কেজি।
তবে স্বস্তির খবর, একই সময়ে (২০২৩ থেকে ২০২৪) চায়ের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে চায়ের রপ্তানি হয়েছিল ১০ লাখ চার হাজার কেজি, যা পরের বছর ২৪ লাখ ৫০ হাজার কেজি হয়। গত বছর ১৯টি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে ওইসব চা। রপ্তানির তালিকায় যুক্ত হয়েছে কয়েকটি নতুন দেশ।
দেশে চায়ের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এখন আমাদের দেশে উৎপাদিত চায়ের মাধ্যমে সেটা পূরণ হয়। বাড়তি চা এখন রপ্তানির জন্য সঠিক উদ্যোগ দরকার। সবাই চাইলে বাংলাদেশের চা বিশ্বব্যাপী রপ্তানি সম্ভব।
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ চা উৎপাদনে পিছিয়ে ছিল। এক দশক আগেও দেশে চা উৎপাদন হতো ছয় কোটি কেজির কিছু বেশি। তবে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার কারণে দেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ১০ কোটি কেজির কাছাকাছি পৌঁছেছিল ২০২৩ সালে, যা বছর বাদে আবার নেতিবাচক ধারায় গেলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মান ও দামে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকার কারণে রপ্তানি বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে আশার কথা, ২০২৩ সালে ১৩টি দেশে চা রপ্তানি হলেও ২০২৪ সালে চা রপ্তানি হয়েছে বিশ্বের ১৯টি দেশে। যে কারণে রপ্তানিও বেড়েছে।
সবশেষ ২০২৪ সালে রপ্তানি হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা, টাকার অঙ্কে যার মূল্য ৪৫ কোটি ৯৫ লাখ। যদিও এটা আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। কারণ আগের বছর রপ্তানি হয়েছিল ১০ লাখ চার হাজার কেজি চা।
এ বিষয়ে চা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের যে কদর ছিল সেটা আবার একটু একটু করে বাড়লেও দুই যুগ আগের যে বাজার তার ধারেকাছেও নেই। উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের চা আন্তর্জাতিক বাজার হারিয়েছে।