মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের সময় রয়েছে।’ দেশটির স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ জুন) সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এর আগের দিন অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানে হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়ার কথা জানান। এএফপির বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জিও টিভি।
ইরান-ইসরাইল সংঘাত নবম দিনে পৌঁছেছে। এখনও থামার ইঙ্গিত নেই এ সংঘাতের। মধ্যপ্রচ্যের শান্তি নিশ্চিতে ইউরোপীয় নেতারা সংঘাত বন্ধে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আলোচনা করছে তারা। তবে, ঠিক এর বিপরীতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালছে তারা।
শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে ইসরাইলের হামলা বন্ধের কোনো কারণ নেই। সংঘাতে ইসরাইল জয়ী জয়ী ভাবে আছে। আমি তাদের (ইরান) একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে চাই। আমি বলতে চাই, সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ। আমি দেখতে চাই, তারা জ্ঞানে ফিরে কি না।’
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে হামলা করা হবে কি না তার জন্য তিনি দুই সপ্তাহ দেখবেন। এর আগে বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আমি কি করব তা কেউ জানে না। কখনো কখনো আবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যগুলো ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অবসান ঘটাতে আলোচনার জন্য দ্বার উন্মোচন হিসাবে দেখা হয়েছিল। অন্যদিকে ইউরোপীয়রা তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে তৎপর। ইতিমধ্যে জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তবে এতে অংশ নিতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
নিউজার্সির মোরিসটাউনে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইউরোপীয়রা) কোনো সাহায্য করছে না। ইরান ইউরোপের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নয়। তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। ইউরোপের ক্ষমতা নেই তাদের সাহায্য করার।’
জেনেভায় ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রথম দফার বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইসরাইল হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান।’
গত ১৩ জুন আকস্মিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, সামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়।
ইসরাইল বলছে, সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪০০টি ড্রোন ছুড়েছে ইরান।