বাংলাদেশি পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো আরও একটি গৌরবময় নাম। ১১তম ব্যাচের ফারুক মুক্তাদির রানা সম্প্রতি সুইসপোর্ট জাপান-এ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দায়িত্বের পরিধি বিস্তৃত—অপারেশনস ও এফিশিয়েন্সি, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ (Aircraft Maintenance), পরিবেশ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (EHS), টেকসই উন্নয়ন (Sustainability), কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট, এভিয়েশন সেফটি ও ট্রেনিং এবং কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তার তত্ত্বাবধানে থাকবে।
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফারুক রানার এই নিয়োগকে বিশ্ববাজারে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি এর আগে অ্যামাজন জাপান-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন, যেখানে তাঁর নেতৃত্ব, অপারেশনাল দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসিত হয়েছে।
ফারুক মুক্তাদির রানার পেশাগত যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশেই। তিনি কাজ করেছেন বাংলাদেশ আণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এ, যা গবেষণাভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে তিনি দেশের এবং বিদেশের বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দাদা গ্রুপ, শেভরন বাংলাদেশ, অ্যালায়েন্স গ্রুপ, এনএসইউ-এর EHS+ সেন্টার, কোটস গ্রুপ পিএলসি এবং সর্বশেষ অ্যামাজন জাপান।
বিশেষ করে EHS (Environment, Health & Safety) এবং সাস্টেইনেবিলিটি খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে এই নতুন দায়িত্বে প্রস্তুত করেছে। সুইসপোর্ট একটি বিশ্বখ্যাত এভিয়েশন সাপোর্ট কোম্পানি, যারা বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে থাকে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি একজন পেশাজীবীর দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন।
ফারুক রানার শিক্ষাগত ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ভিত্তি ছিল সবসময়ই আন্তর্জাতিক মানের। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন প্রজেক্টে কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও গুণগত মান বজায় রাখা হয়েছে। তাঁর পেশাগত নীতি ও জ্ঞান-ভিত্তিক কাজের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেই তিনি ছিলেন আস্থা ও সম্মানযোগ্য একজন নেতৃত্ব।
সুইসপোর্ট জাপানে তাঁর নতুন পদটি শুধু তাঁর জন্য নয়, বরং বাংলাদেশি তরুণ পেশাজীবীদের জন্যও এক ধরনের আশার প্রতীক। এটি প্রমাণ করে, যোগ্যতা, কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।
এই নিয়োগে তাঁর পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু এবং দেশের নানা স্তরের পেশাজীবীরা অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের গড়ে তুলতে।
আমরা ফারুক মুক্তাদির রানার এই নতুন দায়িত্বে সর্বোচ্চ সাফল্য কামনা করছি। তিনি যেন আরও সফল হয়ে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করেন, এই প্রত্যাশায় রইলাম।