জাতীয় পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ন্যাশনাল পেনশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ) এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি (এসবিপিএলসি) এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই, রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে এক আনুষ্ঠানিক ও মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান জনাব মো. মোহিউদ্দিন খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী, ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক দেশের নাগরিকদের জন্য চালু হওয়া নবগঠিত জাতীয় পেনশন স্কিমের বিভিন্ন সেবা প্রদান এবং অর্থ পরিশোধ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে পেনশন অবদান জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এটি ব্যাংকিং খাত ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এক নতুন যুগের সূচনা বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চুক্তিপত্রে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনাব মো. হাবিবুর রহমান এবং ন্যাশনাল পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী চেয়ারম্যান জনাব মো. মোহিউদ্দিন খান। তারা উভয়েই তাঁদের বক্তব্যে এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
জনাব মো. হাবিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই অংশীদারিত্ব আমাদের ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা বিশ্বাস করি, ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও সহজতর করা সম্ভব। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সবসময়ই আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে, এবং এই উদ্যোগ তারই একটি বড় উদাহরণ।”
অন্যদিকে, এনপিএ’র চেয়ারম্যান জনাব মো. মোহিউদ্দিন খান বলেন, “জাতীয় পেনশন স্কিম হলো সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে দেশের সব শ্রেণির মানুষ ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের স্বনামধন্য ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই পেনশন ব্যবস্থাকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করে তুলবে।”
প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক দেশের আর্থিক খাত এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে। ব্যাংক ও সরকারের এই সম্মিলিত প্রয়াসই ভবিষ্যতের একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা পর্বে উভয় প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এছাড়াও অংশীদারিত্বে উদ্ভাবনী সেবা চালু ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে।
উল্লেখ্য, সরকারের এই জাতীয় পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করতে এখন দেশের যেকোনো নাগরিক সহজেই নিবন্ধন করতে পারছেন। ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই স্কিম ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আর এই ধরনের ব্যাংক-ভিত্তিক অংশীদারিত্ব দেশের আর্থিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এই চুক্তি দেশের পেনশন ব্যবস্থা ডিজিটাল রূপান্তরের পথে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।