সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দেশের শীর্ষ পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে ব্যাপক মূল্যপতনের মধ্য দিয়ে। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে, সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। এদিন সূচকের পাশাপাশি বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও ছিল বেশ দুর্বল, যার ফলে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারে দেখা গেছে বিক্রির চাপ।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্টে। যা বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) কমেছে ১১ দশমিক ০৪ পয়েন্ট, যার বর্তমান অবস্থান ১ হাজার ১৪৭ পয়েন্টে। তবে সূচকের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল ডিএস-৩০, যেটি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট এবং বর্তমানে অবস্থান করছে ২ হাজার ৪৪ পয়েন্টে। এই সূচকটি মূলত দেশের শীর্ষ ৩০টি কোম্পানির পারফরম্যান্স ভিত্তিক, যার মানে হলো কিছু ব্লু-চিপ কোম্পানি এদিন তুলনামূলক ভালো পারফর্ম করেছে।
লেনদেনের দিক থেকে মঙ্গলবার বাজারে খুব একটা ইতিবাচক চিত্র দেখা যায়নি। পুরো দিনজুড়ে ডিএসইতে ৭১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৮৮ কোটি টাকা কম। আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮০৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে শিথিলতা এসেছে, যা বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিন মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৮২টি কোম্পানির, বিপরীতে দর কমেছে ২৫০টি কোম্পানি ও ফান্ডের, এবং ৬৪টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সংখ্যাগত দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির ওপর চাপ ছিল এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই ছিল বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আর্থিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদ এবং কিছু কোম্পানির দুর্বল মৌলিক ভিত্তি—সব মিলিয়ে বাজারে একটি আস্থাহীনতা কাজ করছে। সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ না থাকাও সূচকের পতনে ভূমিকা রাখছে।
তবে ডিএস-৩০ সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা আভাস দেয়, বাজারে এখনও কিছু শক্তিশালী কোম্পানি রয়েছে যারা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের শেয়ারগুলোতেই বড় বিনিয়োগকারীরা আপাতত মনোযোগ দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। নয়তো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সার্বিকভাবে, সপ্তাহের শুরুটা বাজারের জন্য ছিল হতাশাজনক। যদিও সূচক ও লেনদেন উভয়ই আরও ঘুরে দাঁড়াতে পারে—সেটি নির্ভর করছে বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইতিবাচক সংকেত ও সরকারের নীতিনির্ধারণী ভূমিকার ওপর।