জনকণ্ঠ পত্রিকার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৬ কোটি টাকার বেশি বেতন বকেয়া রাখার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ আগস্ট) এক ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষে পত্রিকা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন দৈনিকটির নতুন সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য সাবরিনা বিনতে আহমদ।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রক্তচোষে এই প্রতিষ্ঠান চলেছে। এখনো প্রায় ৬ কোটি টাকা বেতন ও পাওনা বকেয়া। অবিলম্বে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে, নয়তো আইনানুগ ও গণআন্দোলনমূলক পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত।”
সাবরিনা আরও অভিযোগ করেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অবমাননা করে পত্রিকাটি কালো টেমপ্লেট নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। লাল রঙে পত্রিকা না ছাপানোর কারণে যেসব সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তাদের সসম্মানে পুনর্বহাল করতে হবে।”
তিনি বলেন, “এই ফ্যাসিস্ট মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২ দিন ছাপাখানা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, প্রিন্ট ভার্সনের কোনো কপি প্রকাশিত হবে না।”
এ সময় সাবরিনা জনকণ্ঠ মালিকের অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানে তিন শতাধিক মানুষ অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তাদের প্রাপ্য পাওনাও আটকে রাখা হয়েছে। কর্পোরেট অমানবিকতা আর চলতে দেওয়া যাবে না — এর পরিবর্তন এখান থেকেই শুরু হোক।”
পত্রিকার প্ল্যানিং অ্যাডভাইজার ও সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, “জনকণ্ঠ এখনো স্বৈরাচারী চেতনায় পরিচালিত হচ্ছে। হাসিনা স্টাইলে ২০ সাংবাদিককে নোটিশ দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের নীতিবিরোধী।”
তিনি আরও দাবি করেন, “জনকণ্ঠের তথ্যপ্রবাহ পরিচালিত হয় ৭টি বিদেশি নাম্বার থেকে — যেগুলো ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা এরফানুল হক নাহিদ বলেন, “নোটিশ ছাড়া কাউকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না। যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তারা স্বপদে বহাল থাকবেন। জনকণ্ঠকে এর জবাব দিতে হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জনকণ্ঠ বহুদিন আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। কয়েলের ব্যবসা আর সাংবাদিকতা এক নয়। সাংবাদিকদের অপমান আর বরখাস্ত মেনে নেওয়া হবে না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রতিবেদক কাওছার রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি উত্তম চক্রবর্তী, ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজীসহ অন্তত শতাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সকলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ঐকমত্য প্রকাশ করেন।