পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে কম্বোডিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী সান চানথোল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী শান্তি স্থাপনে ট্রাম্পের অবদান বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যক্তিপর্যায়ে পূর্বে ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, এবারই প্রথম কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিল।
নমপেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে, চানথোল জানান—“সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে ট্রাম্পের ভূমিকাই ছিল মূল চালিকা শক্তি। তার আন্তরিক উদ্যোগ ও আহ্বানের ফলেই মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় আমরা কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছি।”
শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নয়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও ট্রাম্পের শান্তিপূর্ণ ভূমিকার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে সক্রিয় ছিলেন ট্রাম্প। ওই সময়ে হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ করেছিলেন তিনি। সফর শেষে মুনির নিজেই ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনয়ন দেন।
এরপর জুলাই মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ড, আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন, এবং বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগে আমি যে ভূমিকা রেখেছি, তা মানুষ দেখেছে। আমি জানি, আমি নোবেল পাবো না, কিন্তু ইতিহাস জানবে আমি কী করেছি।”
উল্লেখ্য, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় সংসদ সদস্য, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও পূর্বের বিজয়ীরা মনোনয়ন পাঠাতে পারেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে নরওয়ের পার্লামেন্টের ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি শর্টলিস্ট তৈরি করে, যার ভিত্তিতে অক্টোবর মাসে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার দেওয়া হয় ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে।