ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি জুলাই মাসে আমদানি বৃদ্ধির কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যদিও একই সময়ে পাইকারি পণ্যের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল-জুলাই মাসে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২৭.৫৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৩.৫৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
যদিও রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আমদানি আরও বেশি বৃদ্ধির কারণে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি জুলাইয়ে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি জুন মাসের ১৮.৭৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি এবং অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের ২০.৩৫ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জুলাইয়ে ভারতের রপ্তানি বেড়ে ৩৭.২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা জুনের ৩৫.১৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কিছুটা বেশি। একই সময়ে দেশের আমদানি বেড়ে ৬৪.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা জুনের ৫৩.৯২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।
পাইকারি মূল্য সূচকও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ে ভারতে পণ্যের পাইকারি মূল্য আগের বছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কমেছে, যা জুন মাসের ০.১৩ শতাংশ হ্রাসের চেয়ে বেশি। প্রধানত খাদ্যপণ্যের দাম হ্রাসের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, সবজির দাম জুলাইয়ে আগের বছরের তুলনায় ২৮.৯৬ শতাংশ কমেছে, জুনে এটি ছিল ২২.৬৫ শতাংশ।
জুলাইয়ে খাদ্যের পাইকারি দাম আগের বছরের তুলনায় ২.১৫ শতাংশ কমেছে, যেখানে জুনে এটি ছিল ০.২৬ শতাংশ। উৎপাদিত পণ্যের দাম সামান্য বেড়ে ২.০৫ শতাংশ হয়েছে, জুনের ১.৯৭ শতাংশের তুলনায়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামও ২.৪৩ শতাংশ কমেছে, জুনের ২.৬৫ শতাংশ হ্রাসের চেয়ে সামান্য কম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ক্রয় অব্যাহত রাখার কারণে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও রপ্তানি খাতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি শুল্ক বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।