ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইরানের জনগণকে পানি সংকট থেকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেকে ‘মানবতার রক্ষাকর্তা’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—গাজার মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরেই শত শত শিশু পানির তীব্র সংকট ও দুর্ভিক্ষে মারা যাচ্ছে, আর এই সংকটের পেছনে দায়ী সেই সরকারই।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে অবরোধের কারণে পানি ও খাদ্য সংকটে ৩১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশুদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। গাজায় প্রতিদিন গড়ে একজন মানুষের জন্য পানির সরবরাহ ৩ লিটারেরও কম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বেঁচে থাকার ন্যূনতম মানের এক-পঞ্চমাংশ।
নেতানিয়াহুর ইরানি জনগণকে রক্ষার বক্তব্যের মাত্র দুই দিন পর ইসরায়েলের প্রাক্তন যুদ্ধমন্ত্রী গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ এবং পানি সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক জনগণের জীবনধারণের মৌলিক অবকাঠামো ধ্বংস করা নিষিদ্ধ।
এই পরিস্থিতিতে গাজার শিশুদের অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে—পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের মধ্যে পাচনতন্ত্রের রোগ ৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দূষিত পানি ও অপুষ্টির কারণে নবজাতক মৃত্যুর হার বেড়েছে। ছয় বছর বয়সী মেয়েটি মেরিয়ামের মৃত্যু, যিনি দূষিত পানি পান করে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এই মানবিক বিপর্যয়ের হৃদয়বিদারক উদাহরণ।
পাকিস্তানি লেখক আকমল খান এক নিবন্ধে লিখেছেন—নেতানিয়াহু যখন ইরানের মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তখন মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে গাজার শিশুরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। তার মতে, এটি প্রতারণা ও মিথ্যাচারের এক নগ্ন উদাহরণ, যা শুধু গাজার মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং ইসরায়েলের নীতির প্রকৃত চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে।