অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, পদ্মা ও যমুনার পানি একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা এর উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অন্তত ১২ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও চরাঞ্চল ডুবে গেছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল ও বস্তিগুলোতে পদ্মার পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক ঘরে হাঁটুপানি, রান্নার চুলা চৌকির ওপর উঠিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার ১৫টি চরে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি বাড়ছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বন্যা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পাউবো। স্থানীয় প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।
নাটোরের লালপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫১৮ হেক্টর জমির ফসল ও ১৮টি গ্রামের বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।
উজান থেকে পানি নামায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। গজলডোবা ব্যারাজ থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি, ২১টি স্কুলে পাঠদান বন্ধ।
ভোলায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট ডুবে গেছে, ফলে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।