ফিটনেসবিহীন বাণিজ্যিক যানবাহন সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থ অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাণিজ্যিক যানবাহনের ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় অগ্রিম আয়কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও, দেশে হাজারো যানবাহন ফিটনেস নবায়ন করছে না। ফলে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআরের পক্ষ থেকে এই কর আদায় করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। যানবাহন মালিকরা ব্যাংকে জমা দেওয়া কর চালান বিআরটিএতে দাখিল করেন। কিন্তু যেসব যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন করা হয় না, সেগুলোর কর আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিআরটিএর হিসাবে—
দেশে মোট গণপরিবহন (বাস, মিনিবাস ও হিউম্যান হলার) সংখ্যা: ১,০২,৬৬৮টি
বাস: ৫৬,৭৩৩টি
মিনিবাস: ২৮,৫৬১টি
হিউম্যান হলার: ১৭,৩৭৪টি
এর মধ্যে ফিটনেস সনদবিহীন যানবাহন: ৫০,০৮০টি
বাস: ২৩,৬৬৫টি
মিনিবাস: ১১,৯০৫টি
হিউম্যান হলার: ১৪,৫১০টি
এগুলো শুধু রাজস্ব ফাঁকিই নয়, যাত্রী নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী অগ্রিম আয়কর নির্ধারিত:
৫২ আসনের কম বাস: ২০,০০০ টাকা
মিনিবাস: ১২,৫০০ টাকা
হিউম্যান হলার: ৭,৫০০ টাকা
আগে (অর্থ বিল ২০২৪ অনুযায়ী):
বাস: ১১,৫০০ টাকা
মিনিবাস: ৬,৫০০ টাকা
হিউম্যান হলার: ৪,০০০ টাকা
এ কারণে—
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে: ৪০ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য ক্ষতি: ৭৩ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা
বিআরটিএ, এনবিআর ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী—কোনো পক্ষেরই ফিটনেস নবায়নে দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বর্তমানে বিআরটিএর রাজস্ব মনিটরিংয়ের দায়িত্বে মাত্র ২ জন কর পরিদর্শক আছেন। তারা সিএনএস সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে রাজস্ব পর্যবেক্ষণ করেন।
সম্প্রতি এক ত্রুটিতে দেখা যায়, এনবিআরের রাজস্ব বিআরটিএর ভিন্ন কোডে জমা হচ্ছিল। তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে এবং মহা হিসাব নিরীক্ষককে জানানো হলে প্রায় ১,০৬৪ কোটি টাকা ফেরত আনা হয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন শুধু রাজস্ব ফাঁকিই নয়, সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট ও যাত্রী নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।