বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামকে ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি তার একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগ। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট ২০২৫) এ বিষয়ে গভর্নরের কাছে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
ভিডিও ফাঁসের এই ঘটনাটি সামনে আসে এমন এক সময়, যখন শাহীনুল ইসলাম এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে বিএফআইইউ। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে পুনরায় ফ্রিজ না করে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি এ তথ্য জানতে পারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ২৭ মে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে আবারও ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজের আদেশ দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে অ্যাকাউন্টগুলোতে কেবল ১০১ কোটি টাকা রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। ফলে বাকি টাকা উত্তোলনের পেছনে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন—
“এনা পরিবহনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে অনেক প্রতিষ্ঠানকেই এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দুদক থেকে জানতে চাইলে আমি ব্যাখ্যা দেব।”
অন্যদিকে আপত্তিকর ভিডিও ফাঁসের বিষয়ে তিনি দাবি করেন—
“আমাকে হেয় করার জন্য ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। এগুলো ভুয়া।”
ভিডিওগুলো প্রথমে ১৪ আগস্ট থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ছড়ালেও ১৮ আগস্ট থেকে তা খোলাখুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন বিএফআইইউর সাবেক প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। এরপর দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ পান শাহীনুল ইসলাম। তবে, গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত সার্চ কমিটির তালিকায় তার নাম না থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ নিয়েও ইতোমধ্যেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।