শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বিএফআইইউ প্রধান শাহীনুল ইসলাম বাধ্যতামূলক ছুটিতে, দুর্নীতি ও ভিডিও কেলেঙ্কারিতে তদন্ত শুরু

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮৮ পড়া হয়েছে
বিএফআইইউ প্রধান শাহীনুল ইসলাম

বিএফআইইউ প্রধান শাহীনুল ইসলাম বাধ্যতামূলক ছুটিতে, দুর্নীতি ও ভিডিও কেলেঙ্কারিতে তদন্ত শুরু

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহীনুল ইসলাম ছুটিতে থাকবেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের কাছে লিখিত স্মারক লিপি দিয়ে অবিলম্বে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর দাবি জানান।

গত ১৪ আগস্ট থেকে শাহীনুল ইসলামের আপত্তিকর ভিডিও বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ আগস্ট থেকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ব্যাপক সমালোচনার পর ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে। প্রাথমিকভাবে ফ্যাক্ট-চেক করে ভিডিওটিকে সত্য বলে নিশ্চিত করা হয়। যদিও শাহীনুল ইসলাম ভিডিওগুলোকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন।

এছাড়া বিতর্কিত পরিবহন ব্যবসায়ী এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পরও প্রায় ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হয়েছে কিনা তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের নামে থাকা ৫০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে বিএফআইইউ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি অ্যাকাউন্ট পুনরায় ফ্রিজ না করায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ টাকা মূলত পরিবহন খাত থেকে দৈনিক অবৈধ চাঁদার মাধ্যমে সংগৃহীত।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৭ মে আদালত ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টগুলোতে রয়েছে মাত্র ১০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাকি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ থেকেও প্রভাবশালীদের অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৮ আগস্ট বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস পদত্যাগে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান শাহীনুল ইসলাম।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024