বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পে নেটওয়ার্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন (এএএবি) নেটওয়ার্কিং হাব আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বনানী ক্লাবের ব্যাংকোয়েট হলে, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন সংস্থা ও ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান।
প্রতিনিধি ছিলেন ৩৫টি বিজ্ঞাপন সংস্থা থেকে ৬৫ জন, এবং গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিএমও ফারহা নাজসহ অন্যান্য মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা। এএএবির নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সানাউল আরেফিন, সহ-সভাপতি নাজিম ফারহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহসানুল আপন, যুগ্ম সম্পাদক এম এ মারুফ এবং অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় যুগ্ম সম্পাদক এম এ মারুফের স্বাগত বক্তব্য দিয়ে। পরে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহসানুল আপন একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন শিল্পের চ্যালেঞ্জগুলি তুলে ধরেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ভ্যাট ও ট্যাক্স ইস্যু, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, এজেন্সি পিচ ফি। এছাড়াও তিনি তুলে ধরেন এএএবির সাম্প্রতিক সাফল্য যেমন:
বৈদেশিক মুদ্রায় বিজ্ঞাপন পরিশোধ সহজ করার উদ্যোগ (গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব)
এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয়ে ভ্যাট সংস্কার
বিজ্ঞাপন-আইটিইএস খাতের জন্য ১০০% ট্যাক্স ছাড় পুনর্বহাল
প্রেজেন্টেশনের শেষে তিনি আগামী কর্মশালায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং নতুন ২৩টি সদস্য এজেন্সিকে স্বাগত জানান।
এরপর সহ-সভাপতি নাজিম ফারহান চৌধুরী পরিচয় করিয়ে দেন অতিথি সিইও ইয়াসির আজমানকে, যিনি আলোচনা করেন ভোক্তাদের আচরণ পরিবর্তন, সৃজনশীলতার প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং এআই ব্যবহার। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নানা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেন।
ইয়াসির আজমান উল্লেখ করেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে মানিয়ে না নেওয়া মানে প্রতিদিন আরও পিছিয়ে পড়া। তিনি এএএবির উদ্যোগকে প্রশংসা জানিয়ে বলেন, সি-লেভেল পেশাজীবী ও বিজ্ঞাপনের সৃজনশীলরা একসাথে চ্যালেঞ্জ সমাধান করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি সানাউল আরেফিন অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ নই; আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলছি, যেখানে সৃজনশীলতা বিকশিত হবে, ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্প বৈশ্বিক বাজারে মর্যাদা অর্জন করবে।”
সেশন শেষে রাত ৯টায় নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলায় রূপ নেয়।