যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স – ডিএনআই) কর্মীসংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। অফিস পুনর্গঠন এবং কার্যক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাবার্ডের নেতৃত্বাধীন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংস্থার বার্ষিক বাজেটও প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার কমানো হবে। তিনি জানান, গত দুই দশকে ডিএনআই “অতিরিক্ত বড় ও অকার্যকর” হয়ে উঠেছে। তাই বিভিন্ন টিমকে একত্রিত করে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
গ্যাবার্ডের মতে, এভাবে পুনর্গঠন করা হলে গোয়েন্দা সংস্থা নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন এবং সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে আরও কার্যকর হবে।
তবে এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই গ্যাবার্ড জানিয়ে দেন, ট্রাম্প প্রশাসন অবিলম্বে সাবেক ও বর্তমান মোট ৩৭ জন মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) বাতিল করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তারা সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, অনুমতি ছাড়া তথ্য ফাঁস করেছেন এবং জনগণের আস্থা ভঙ্গ করেছেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হাজির করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে জো বাইডেন ও বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও রয়েছেন। তবে তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এখনো সক্রিয় কিনা, তা পরিষ্কার নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্যাবার্ড বলেন, “নিরাপত্তা ছাড়পত্র কোনো অধিকার নয়, বরং এটি একটি বিশেষ সুবিধা।” যারা শপথ ভঙ্গ করে জনগণের স্বার্থের ঊর্ধ্বে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তারা গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের প্রতি দেওয়া আস্থা ভেঙেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।