বাংলাদেশে নন-লাইফ বীমা খাতের প্রসারে নানা সম্ভাবনা থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতা এই খাতকে পিছিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত এজেন্ট কমিশনের বাইরে অতিরিক্ত কমিশন প্রদান, বিশ্ববাজারের তুলনায় উচ্চ প্রিমিয়াম হার এবং পণ্যের স্বল্পতা এ খাতের উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ব্যবসা সংগ্রহে এজেন্ট প্রথার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, তবে এটি খরচ বাড়াচ্ছে। এজন্য এজেন্ট প্রথা বিলুপ্ত করে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভদের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে খরচ কমবে, দক্ষতা বাড়বে এবং গ্রাহক সেবায় স্বচ্ছতা আসবে।
বাংলাদেশে নন-লাইফ বীমা খাতে উদ্ভাবনী পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। তাই বীমা সেবা বিস্তারের জন্য বিভিন্ন খাতকে বাধ্যতামূলক বীমার আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী কোম্পানিকে পরীক্ষামূলক সময় দিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সফল হলে পরে অনুমোদন নেওয়া যেতে পারে। এতে কোম্পানিগুলো নতুন পণ্য উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ট্যারিফ মার্কেটে প্রিমিয়ামের হার বিশ্ববাজারের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে অতিরিক্ত কমিশনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নন-ট্যারিফ মার্কেট চালু করা হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের আরও প্রতিযোগিতামূলক সেবা দিতে পারবে এবং প্রিমিয়াম বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে সরকারি ব্যবসার ৫০ শতাংশ বেসরকারি নন-লাইফ কোম্পানির মধ্যে বণ্টন করা হয়। তবে এ পুরো অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে দেওয়া হলে খাতটির আরও উন্নতি হবে।
একইভাবে, পুনঃবীমায় বর্তমানে ৫০% বাধ্যতামূলক সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে করতে হয়। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এ হার ৩০% করা এবং বাকি ৭০% বিদেশি অথবা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে করার বিকল্প রাখার।
বীমা দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এখনও জটিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সরবরাহের শর্তগুলো সহজীকরণ করলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে।
অন্যদিকে প্রিমিয়াম পরিশোধের নিয়ম কিছুটা শিথিল করার প্রয়োজন আছে। বর্তমানে তাৎক্ষণিক জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এক মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো যেতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না হলে প্রতিদিন ১% হারে জরিমানা আরোপ করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্টেকহোল্ডাররা একসঙ্গে উদ্যোগ নিলে নন-লাইফ বীমা খাতকে স্বচ্ছ, কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করে তোলা সম্ভব। এতে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে, বীমা কভারেজের হার বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
লেখক: আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানী পিএলসি