যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট রপ্তানি করা বিভিন্ন ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর, ব্রাজিলও পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুল্কের প্রেক্ষিতে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি পর্যালোচনার অনুমোদন দিয়েছেন। ব্রাজিলের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখবে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক তাদের সম্প্রতি প্রণীত ‘অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইন’-এর আওতায় পড়ে কিনা।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যদি শুল্ক আইনের আওতায় পড়ে, তবে বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশে পাল্টা শুল্ক আরোপসহ অন্যান্য বাণিজ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। ব্রাজিল শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে জানাবে।
ব্রাজিলের ‘অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইন’ ২০২৪ সালে পাস করা হয়েছিল। এই আইনের আওতায় সরকার এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারবে যারা একতরফাভাবে ব্রাজিলের প্রতিযোগিতায় ক্ষতি করে। এই পদক্ষেপের মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ স্থগিতকরণ এবং মেধা সম্পত্তি চুক্তি স্থগিত করা অন্তর্ভুক্ত।
গত ৬ আগস্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাহত হয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ব্রাজিলের কথা শুনছে না। যদিও ট্রাম্প মূলত বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের দেশগুলোর ওপর এ পদক্ষেপ নেন, তবে ব্রাজিলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ২৯.৬ বিলিয়ন ডলার।
ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিল্প যন্ত্রপাতি, গাড়ির ইঞ্জিন, মহাকাশ শিল্পের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য স্টিল-ভিত্তিক পণ্য আমদানি করে। ট্রাম্প জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান বিচারকে শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রাজিল ইতিমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর সহায়তা চেয়েছে এই বিরোধ মীমাংসার জন্য।