রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ নামের ব্যানারের আড়ালে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র এবং সরকারের বিরুদ্ধে উত্তেজনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তার প্ররোচনামূলক বক্তব্যে উপস্থিত অন্যরা স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে ও আসামিদের পরিচয় যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়া পরবর্তীতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন এবং সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যে ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে গত ৫ আগস্ট। এর অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকার রিপোর্টারস ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠান চলাকালে একদল ব্যক্তি হট্টগোল সৃষ্টি করে। তারা গোলটেবিল বৈঠকের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং অতিথিদের লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে শাহবাগ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহাম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।