উল্লেখ করা হয়েছে, কোন সময়ের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমগুলো শেষ হবে। তবে ভোটগ্রহণের তারিখ বা নির্বাচনী তফসিলের সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তারিখের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে তিনি এখনই সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে অপারগ। তাঁর ভাষায়, “প্রধান উপদেষ্টা শুধু বলেছেন, আগামী রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
রোডম্যাপ ঘোষণার পর দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
বিএনপি: ঘোষিত রোডম্যাপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
জামায়াতে ইসলামী: জানিয়েছে, তারা আংশিক সন্তুষ্ট। তাদের দাবি— পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি তারা বর্তমান ওয়েস্ট মিনিস্টার মডেল মেনে নির্বাচনে অংশ নেবে না? যদি না নেয়, তবে সংকট তৈরি হতে পারে।
এনসিপি: রোডম্যাপকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল বলেছে। তাদের বক্তব্য— জুলাই সনদ চূড়ান্ত হওয়ার আগে নির্বাচনি রোডম্যাপ দেওয়া মানেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দলগুলোকে দ্রুতই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এখন সময়ের দাবি। বহু বছর ধরে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বের শাসন দেখা যায়নি। বর্তমান সরকার জনগণের সমর্থনেই প্রতিষ্ঠিত, তবে তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে হবে।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির যে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করা জরুরি। কারণ প্রধান তিন দলের যে কোনো একটি নির্বাচনে অংশ না নিলে প্রশ্ন উঠতে পারে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সমাজ, আর সেটি অর্জনের বড় মাধ্যম হচ্ছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।