১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় যুদ্ধের মাঠে নেমেছিল। স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। মেজর জিয়া তাঁর পরিবারকে বিপদে ফেলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, আর সে সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আত্মসমর্পণ ও পালানোর পথে ছিলেন—কেউ বিমান ধরে পাকিস্তানে, কেউ মেহেরপুরের পথে। অন্যদিকে তরুণ নেতারা বুড়িগঙ্গার ওপারে মোস্তফা মোহসিন মন্টুর বাসায় জিয়ার বেতার ঘোষণা শুনে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সাধারণ জনগণ, ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষকরা এগিয়ে এসে স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরেও দেশের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়। আওয়ামী লীগের ভেতরের বিভাজন জন্ম দেয় জাসদ ও নতুন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনের একাধিক সুযোগ হারানো হয়। ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশালের প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ ও জনমত দমন—all দেশের জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এরপর আগস্টে শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হন।
তবে দেশের মুক্তিকামী সৈনিকরা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে। জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মুক্ত সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য উদার ও সংহত রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে।
পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং স্বৈরাচারমূলক সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব প্রদর্শন করেন। তিনবার নির্বাচিত হয়ে তিনি জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করেন। বর্তমান সময়ে বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমান দল পরিচালনা করছেন, যা দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন, হত্যা ও গুমের মধ্যে থেকেও দলকে সুসংহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায়, সাধারণ মানুষ চায় দেশের মালিকানা ফেরত পেতে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সম্ভাব্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের সুযোগ রয়েছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল বিভাজন ও অপ্রয়োজনীয় দাবি তুলে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। সাধারণ মানুষ চাইছে নির্বিঘ্ন নির্বাচন, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক পথে এগোতে পারে।
অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, আহ্বায়ক, বিএনপি মিডিয়া সেল, মন্তব্য করেন যে, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে রয়েছে মহান সুযোগ—দেশকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নেওয়ার, অথবা ইতিহাসে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। এখন সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার।