আমদানি করা ওষুধের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এপির প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, কিছু ওষুধে এই শুল্ক ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে গাড়ি ও ইস্পাতের মতো খাতে শুল্ক আরোপ করেছেন। এবার তিনি নজর দিয়েছেন ওষুধশিল্পে, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রায় শুল্কমুক্ত ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধের দাম বাড়বে, সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে এবং সংকট দেখা দিতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের ২৩২ ধারা অনুসারে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোভিড–১৯ মহামারির সময় ওষুধ সরবরাহে ঘাটতির অভিজ্ঞতা থেকেই স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশন ওষুধের ৯২ শতাংশ জেনেরিক, যার বড় অংশ বিদেশে উৎপাদিত। অ্যান্টিবায়োটিকের ৯৭ শতাংশ, অ্যান্টিভাইরালের ৯২ শতাংশ ও জেনেরিক ওষুধের ৮৩ শতাংশের অন্তত একটি সক্রিয় উপাদান বিদেশ থেকে আসে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ব্যবস্থা করা কঠিন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। নিম্ন আয়ের পরিবার ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামও বেড়ে যেতে পারে।
যদিও কিছু বড় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে—রোশে ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং জনসন অ্যান্ড জনসন ৫৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়—তবুও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ শৃঙ্খল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ শুল্কের বাইরে ভারতীয় ওষুধ রয়েছে। ফলে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ চালিয়ে যেতে পারবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানিতে তেমন প্রভাব পড়বে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় বাজার নয় এবং এখনো এলডিসি সুবিধা ভোগ করছে।
আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সার্কিট কোর্ট বলেছে, এ ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে শুধু প্রেসিডেন্ট নন, কংগ্রেসের অনুমোদনও প্রয়োজন। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।