শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

প্রধান উপদেষ্টার বিচক্ষণতা: রাজনৈতিক অস্থিরতায় আশার আলো

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১১৬ পড়া হয়েছে
প্রধান উপদেষ্টার বিচক্ষণতা: রাজনৈতিক অস্থিরতায় আশার আলো

প্রধান উপদেষ্টার বিচক্ষণতা: রাজনৈতিক অস্থিরতায় আশার আলো

রোববার প্রধান উপদেষ্টা দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল— বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণা বিএনপিকে সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করেছে, কারণ শুরু থেকেই তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি কিছু শর্তারোপ করেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবুও রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় বক্তব্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আর বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের বিকল্প নিয়ে চিন্তা করা জাতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। আসলে, সময়মতো নির্বাচন না হলে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

 রাজনৈতিক সংকট ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি

সম্প্রতি দেশে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যা আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে জামায়াত ও এনসিপির শর্তগুলো নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার রোববারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

প্রধান উপদেষ্টা যে দৃঢ়তার সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা আশাবাদ বাড়িয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রয়োজন সম্মিলিতভাবে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো, যাতে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে আর কোনো বাধা না থাকে।

 অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা

একটি অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ছিল নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন বাস্তব, কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আসেনি। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সেই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তবে এর আগে জুলাই সনদ ও সংস্কারগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

 বিএনপির সহযোগিতা ও অন্যান্য দলের ভূমিকা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে “অদৃশ্য শক্তির ষড়যন্ত্র” চলছে। এই আশঙ্কা দূর করতে হবে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে বিএনপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারকে সহযোগিতা করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে অন্যান্য দলকেও একই ভূমিকা রাখতে হবে।

সবাইকে মনে রাখতে হবে— ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়। দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করা যাবে না। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান যে গণতান্ত্রিক গৌরব ফিরিয়ে দিয়েছে, তা যেন কোনো অবস্থাতেই ম্লান না হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনই একমাত্র সমাধান। তাই কোনো বিলম্ব না করে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়। এটাই জাতির স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024