বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডে অংশগ্রহণ করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এটি দেশের উদ্ভাবনশীল ও সম্প্রসারণযোগ্য স্টার্টআপগুলোর জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ফান্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ ও ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।
স্টার্টআপ ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডটি একটি পুনঃঅর্থায়নভিত্তিক রিভলভিং স্কিম, যা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ উদ্ভাবনী ব্যবসার বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফান্ডের আওতায় অংশগ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স বা আরজেএসসি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। তাদের পণ্য, সেবা বা প্রযুক্তিতে অবশ্যই উদ্ভাবন থাকতে হবে। দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য ও বাজারে পরিবর্তন আনতে সক্ষম ব্যবসাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফান্ড থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪% হারে ঋণ পাবেন, যা ২ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঋণ গ্রহণের জন্য বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মানসুর স্টার্টআপগুলোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ফান্ড উদ্ভাবন, নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং নতুন প্রজন্মের আইডিয়ার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এটি দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদার হয়ে আমরা উদ্যোক্তাদের মূলধনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও ব্যবসার বিকাশের সুযোগ দিতে চাই। তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়াগুলো বাস্তব রূপে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন্নাহার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হুসনে আরা শিখা, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশিক হোসেন।
এই অংশীদারিত্ব দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তারা এখন প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেয়ে উদ্ভাবন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। এই উদ্যোগ দেশের উদ্যোক্তা-বান্ধব অর্থনীতির নতুন যুগের সূচনা করবে।