বাংলাদেশের শিপিং ও জ্বালানি খাতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হলো। দুটি সমুদ্রগামী আফ্রাম্যাক্স অয়েল ট্যাংকার কেনার জন্য মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস (এমজেএল বাংলাদেশ)–কে প্রায় ৯৫ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা) ঋণ দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এই অর্থায়ন দেশের বেসরকারি কোনো ব্যাংকের ইতিহাসে শিপিং ও পেট্রোলিয়াম অবকাঠামো খাতে সর্ববৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মবিল হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ–সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং এমজেএল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন স্বাক্ষর করেন। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় এমজেএল বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত করেছে ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের একটি আফ্রাম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকার। প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এ জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশের পতাকাবাহী সর্ববৃহৎ সমুদ্রগামী জাহাজ। এটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম কোম্পানিকে সমুদ্রপথে পরিবহনসেবা দেবে।
এছাড়া, এমজেএল বাংলাদেশ আরও একটি নতুন ট্যাংকার ‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’ কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন—
“এই অর্থায়ন শুধু একটি চুক্তি নয়, বরং দেশের শিপিং ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। বেসরকারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে এত বড় অঙ্কে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ দেওয়া নজিরবিহীন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”