সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরা ব্যাংকটি অন্য রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত না করে সরকারের অর্থ সহায়তায় পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচটি দুর্দশাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে একটি বড় ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো আলোচনার আগে এই উদ্যোগ নেওয়ায় তারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মেজর (অব.) এম রেজাউল হক বলেন, “মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এই ব্যাংক দখল করা হয়েছিল। এখন আবার সরকারি খাতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের অপরাধ কী? ব্যাংকটি অন্যের হাতে দেওয়া যাবে না। আমরা আদালতে রিট করেছি, সেই রিটের নিস্পত্তি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দিলে ব্যাংক দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় আমরা গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারব এবং ব্যাংকটিকে লাভজনক ও সফল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করতে সক্ষম হব।”
ব্যাংকের উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা ব্যবসায়ী। আমরা ব্যাংক পরিচালনা করতে পারি। এটি আমাদের সম্পদ। সরকার কি একজনের বাড়ি-ঘর নিয়ে নিতে পারে?”
সাবেক পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক কষ্টে ব্যাংকটি গড়ে তুলেছি, প্রবাস থেকে অর্থ এনে এটি প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন কেন সরকারিকরণ করতে হবে?”
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আরও জানান, “ব্যাংক পরিচালনায় যতটুকু টাকা প্রয়োজন, তা আমরা ব্যবসার মাধ্যমে ফেরত দেব। পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে আমরা একমত নই।”
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি দুর্দশাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করতে প্রাথমিকভাবে ৩৫,২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে সরকার সরবরাহ করবে ২০,২০০ কোটি টাকা, ৭,৫০০ কোটি টাকা আসবে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে এবং বাকি ৭,৫০০ কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে প্রদান করা হবে।