ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো। মঙ্গলবার ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং মধ্যরাতে ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি, জিএস, এজিএসসহ বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা।
নির্বাচন চলাকালীন কিছু কারচুপির অভিযোগ থাকলেও প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানো হলো, এবং যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরও শুভেচ্ছা রইল। একই সঙ্গে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই নির্বাচনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, পুরো প্রক্রিয়াটি রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন হওয়া। নির্বাচন-ঘোষণা থেকে ফলাফল ঘোষণার পর পর্যন্ত কোনো বড় অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, কণ্ঠস্বর কখনো চড়ে উঠলেও সীমা অতিক্রম হয়নি। ৭৮.৩৬ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ দেখিয়েছে যে, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা ভোট প্রদানের সুযোগ গ্রহণ করেছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভিভাবক সংগঠন বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। তারা সহিংসতা এড়াতে সতর্কতা জারি করেছে, যা দলের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ। বিশেষ করে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচক্ষণতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নবনির্বাচিত ডাকসু প্রতিনিধিদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান এবং সাংস্কৃতিক মান উন্নয়নে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে।
নবনির্বাচিত ভিপি ইতোমধ্যেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে দেখা যাবে, এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও একই শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া বজায় রাখার আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।