বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের প্রথম সাত মাসে ভারতের বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। এই বিদ্যুতের বড় অংশ এসেছে আদানি পাওয়ারের কয়লা-চালিত কেন্দ্র থেকে।
শিল্প কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকদের মতে, দেশে গ্যাস সরবরাহ সীমিত এবং কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সরকারকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। বাংলাদেশ আগে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন থেকে পেত। তবে গ্যাস অবকাঠামোর চ্যালেঞ্জ এবং খরচ কমানোর কারণে এখন বিদ্যুৎ আমদানি এবং স্থানীয় কয়লা-ভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সামিট পাওয়ার পরিচালক আদিবা আজিজ খান বলেন, “গ্যাসের চাহিদা শিল্পের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে তেল বা কয়লা থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।” তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থাতেও সমস্যা রয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে।”
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) এক কর্মকর্তা জানান, “গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে না। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কয়লাচালিত উৎপাদনও কম।” লোডশেডিং এড়াতে সরকার ভারতের বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছে, যা চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, এ বছরের প্রথম সাত মাসে বিদ্যুৎ আমদানি ৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেলভিত্তিক উৎপাদন ১১.৯ শতাংশ থেকে ১২.৬ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শফিকুল আলম, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশভিত্তিক বিশ্লেষক, বলেন, “মার্চ মাস থেকে যখন চাহিদা বৃদ্ধি পায়, সরকারকে আমদানি এবং তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে।”
একই সময়ে বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই সময় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ১.২ শতাংশ কমেছে, যা নির্দেশ করে আমদানিকৃত গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে যথেষ্টভাবে ব্যবহার হয়নি।