যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এ বছর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৪৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
তবে এ সাফল্যের পাশাপাশি নতুন এক চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ২৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের জন্য ১৯ শতাংশ এবং চীনের জন্য ৩০ শতাংশ।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে বহু ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে আসছে। গত ছয় থেকে আট মাসে এই ধারা স্পষ্ট হয়েছে। তাদের ধারণা, নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে আগামী মৌসুম থেকে আরও বেশি ক্রয়াদেশ পাওয়া যাবে। তবে কিছু মার্কিন ক্রেতা শুল্কের একটি অংশ সরবরাহকারীদের বহন করার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ৯৪৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষে রয়েছে, যা ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। চীন ৬৯২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, তবে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক, অর্থাৎ ২১ শতাংশ কমেছে। শুধু জুলাই মাসেই চীনের রপ্তানি ৩৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ভারত ৩৩১ কোটি ডলার, ইন্দোনেশিয়া ২৬৭ কোটি ডলার এবং পাকিস্তানও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রপ্তানি করেছে। তবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় দেশটি এ খাতে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মার্কিন ক্রেতাদের কেউ কেউ শুল্কের বোঝা সরবরাহকারীদের কাঁধে চাপাতে চাইছে। তবে সংগঠন থেকে সদস্যদের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ সীমিত মুনাফার ব্যবসায় এ অতিরিক্ত বোঝা বহন সম্ভব নয়।
অন্যদিকে অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির জানান, কিছু মার্কিন ক্রেতা মিসর বা হাইতির মতো দেশে নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে ব্যবসায়ীদের সতর্ক হয়ে এগোতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।